মনোনয়ন বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত, আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিটি ধাপ আইন অনুযায়ী ও আচরণবিধি মেনে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- বলেন, 'নির্বাচনি আচরণবিধি কোনোভাবেই শিথিল করা যাবে না—এমন নির্দেশনা দিয়ে মাঠ প্রশাসন, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মোট ২,০৯০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ৪৭৮ জন। সব মিলিয়ে ৩০০ আসনে আড়াই সহস্রাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এখন চলছে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হবে আগামী ৪ জানুয়ারি।
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি আনোয়ারুল বলেন, 'মনোনয়নপত্র দাখিলের পর যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। এখন থেকে আইন অনুযায়ী ধাপে ধাপে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। আচরণবিধি প্রতিপালনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।'
তিনি বলেন, 'আচরণবিধি যাতে শতভাগ মানা হয়, সে বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে আমরা নিয়মিত তাগিদ দিচ্ছি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এখানে কোনো শৈথিল্যের সুযোগ নেই।'
ইসি কমিশনার আরও বলেন, 'তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত রাস্তাঘাটে বড় ধরনের পোস্টার, ব্যানার বা বিলবোর্ড চোখে পড়ছে না, যা ইতিবাচক দিক।'
রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচন কমিশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
ঢাকা ১৩ ও ঢাকা ১৫ আসনে আসনের রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তার দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান, আগামী ৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা জেলা প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগরের আসনগুলোতেও একই দিনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থী, তার প্রস্তাবক ও সমর্থক এবং প্রার্থী চাইলে নিযুক্ত আইনজীবীসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন উপস্থিত থাকতে পারবেন। যাচাই শেষে কোন মনোনয়ন বৈধ এবং কোনটি বাতিল—সে বিষয়ে প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হবে।
রিটার্নিং অফিসার জানান, যাচাই-বাছাইয়ে যেসব মনোনয়নপত্র বাতিল হবে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, 'বাছাইয়ে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল দাখিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।'
মো. ইউনুচ আলী জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী ঋণখেলাপি হওয়া, আয়কর সংক্রান্ত জটিলতা, মনোনয়নপত্র সঠিকভাবে পূরণ না করা কিংবা আইনগত যোগ্যতার ঘাটতির কারণে মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। তবে সহজে সংশোধনযোগ্য ত্রুটি থাকলে আইনের আওতায় যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়া হতে পারে।
তিনি জানান, নির্বাচনের বাকি সময়সূচি গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী, চলবে ৩০ ডিসেম্বর (২০২৫) থেকে মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হয়েছে কিছু এলাকায় এটা চলবে ৪ জানুয়ারি (২০২৬)পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি।
আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, আচরণবিধি মানতে রাজনৈতিক দলগুলোও কমিশনকে সহযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, 'আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করেছি যেন তারা তাদের নেতা-কর্মীদের আচরণবিধি মানতে নির্দেশনা দেয়।'
তিনি আরও বলেন, 'দলগুলোর পক্ষ থেকেও সেই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে আমরা এটিকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছি।'
