নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার আতাউর রহমান বিক্রমপুরী
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা ৯০ দিনের আটকাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহযোগিতায় নরসিংদী থেকে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বিভিন্ন সময় উষ্কানীমূলক বক্তব্য দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, 'গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে আতাউর রহমান বিক্রপুরীর অগ্রিম আটকাদেশ আছে। তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমরা তাকে আটক করেছি। বিস্তারিত জিএমপি বলতে পারবে।'
আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানা থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে তাকে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মঙ্গলবার আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে আটক করে টঙ্গী পূর্ব থানায় হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে টঙ্গী পূর্ব থানা থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লা আল মামুন বলেন, 'আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ রাখা হয়েছে।'
মঙ্গলবার রাত থেকেই আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর ভক্ত ও অনুসারীরা তার বিষয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করছিলেন। ভৈরব থেকে বাসে করে আসার পথে বাস থামিয়ে তাকে মাইক্রোবাসের তুলে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তার অনুসারীরা।
গাজীপুরে একজন ইমামের অপহরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর পর বিক্রমপুরী প্রথম আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে দেখা যায় যে, ওই ইমাম অপহৃত হননি, বরং তিনি নিজেই এই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।
এছাড়া, কয়েক মাস আগে প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত একটি বিক্ষোভেও বিক্রমপুরী অংশ নিয়েছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ যাদের আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল, তাদের জোরপূর্বক মুক্ত করার প্রচেষ্টাতেও তিনি নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও রাজধানীর শাহবাগ থানায় যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে যে 'তৌহিদী জনতা' থানায় হামলা চালিয়েছিল, সে দলেও ছিলেন তিনি।
