১১ নভেম্বরের জনসভা সফল করতে জামায়াতের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং নির্বাচনের আগে সেই সনদের ওপর গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) রাজধানীর পল্টনে পূর্বঘোষিত জনসভাকে সফল করতে জামায়াতে ইসলামী একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে জনসভা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কর্মসূচি সফল করার জন্য দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। জামায়াতের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সভা শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আসন্ন জনসভাকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।'
সভায় উপস্থিত ছিলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা'ছুম, সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আবদুর রহমান মুসা, দক্ষিণের নায়েবে আমীর আবদুস সবুর ফকির এবং অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনসহ মহানগর ও ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করা; আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে বা উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা; 'ফ্যাসিস্ট' সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং 'স্বৈরাচারের দোসর' জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
এর আগে, ৬ নভেম্বর এসব দাবি বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেয় জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল।
সেসময় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, '১০ নভেম্বরের মধ্যে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে।'
জানা যায়, ১১ নভেম্বরের জনসভাকে কেন্দ্র করে সমমনা ধর্মভিত্তিক দলগুলো রাজধানীতে ব্যাপক জনসমাগম করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
