৫৪৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, এস আলমের চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম মাসুদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ৫৪৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদক মহাপরিচালক আখতার হোসেন।
মামলায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মিফতাহ উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা এবং ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকিজ উদ্দিন। অভিযুক্তদের মধ্যে আরও আছেন— শব মেহের স্পিনিং মিলস লিমিটেডের এমডি মো. মশিউর রহমান, একই কোম্পানির পরিচালক মোহাম্মদ শওকত উসমান, টপ টেন ট্রেডিং হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. আলমাছ আলী, গোল্ড স্টার ট্রেডিং হাউসের স্বত্বাধিকারী বেদারুল ইসলাম এবং আলম ট্রেডিং অ্যান্ড বিজনেস হাউসের স্বত্বাধিকারী নুরুল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে এস আলম গ্রুপের সেসময়কার মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫৪৮ কোটি টাকা মেহের স্পিনিং, টপ টেন ট্রেডিং, গোল্ড স্টার ট্রেডিং ও আলম ট্রেডিংয়ের বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করেন। এরপর সেই টাকা নেওয়া হয় এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এস আলম সুপার এডিবল অয়েল, সোনালী ট্রেডার্স, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ও এস আলম সুপার এডিবল অয়েলের নামে ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় চলতি হিসাবে। এরপর সেই টাকা পাচার করা হয়েছে বলে দুদকের তদন্তে তথ্যপ্রমাণ মিলেছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে দুর্নীতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচারের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯ ও ৪২০ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান– ইসলামী ব্যাংক গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে 'দখলে' নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির সিংহভাগ মালিকানা তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগ রয়েছে এস আলমের বিরুদ্ধে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার এসে ব্যাংকটিকে এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে। এরপর থেকে অর্থপাচারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদকসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।