এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের লাইসেন্স বাতিল করলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) লাইসেন্স বাতিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বামার অধিকাংশ সদস্য আগে ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিল এবং এখনও অনেকে সদস্য হিসেবে রয়েছে। ক্রপ প্রোটেকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ১,২৩০ এবং বামার সদস্য ২০।
মন্ত্রণালয় বলেছে, দুটি সংগঠনের লক্ষ্য একই হওয়ায় একইখাতে একাধিক সংগঠন থাকায় বালাইনাশক আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও বাজারজাতকরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বালাইনাশক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্তদের একটি সংগঠন থাকাই যুক্তিযুক্ত।
আরও বলা হয়েছে, এই অবস্থায় বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ এর ৮ ধারা এবং বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫ এর ১০ বিধির প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বামা) বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিপিএ) সঙ্গে একীভূত করার উদ্দেশ্যে বামার অনুকূলে দেওয়া লাইসেন্সটি সরকার বাতিল করল।
এ বিষয়ে বামার প্রেসিডেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'কোনোভাবেই আমদানিকারক ও উৎপাদকদের একটি অ্যাসোসিয়েশন থাকতে পারে না। ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন মূলত আমদানিকারকদের সংগঠন এবং অতীতে দেখা গেছে, তারা দেশে এগ্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আমদানিকে উৎসাহিত করেছে।'
তিনি বলেন, 'আমদানিকারকরা কখনো নিজেদের ব্যবসার ক্ষতি করে দেশীয়ভাবে উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে না। তাই উৎপাদক ও ম্যানুফ্যাকচারারদের পৃথক দুটি সংগঠনকে একীভূত করা যৌক্তিক নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'তাছাড়া বাণিজ্য সংগঠন আইনের ধারা ৮ এর সঙ্গে ধারা ৫ মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হবে যে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন আইনসম্মত হয়েছে কি-না।'
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে যখন এগ্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন হতো না, তখন আমদানিকারক ও বর্তমান ম্যানুফ্যাকচাররা সবাই বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিল।
পরবর্তীতে এই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের মধ্যে কয়েকজন ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু করলে তারা 'বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা)'- নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক সংগঠনের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করে। ২০২২ সালের আগস্টে লাইসেন্স পান তারা। বর্তমানে বামার সদস্য সংখ্যা ২২।
বাংলাদেশে এগ্রোকেমিক্যাল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধি-বিধান আমদানিকারকদের পক্ষ থাকায় গত তিন বছর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে তা তুলে ধরে আসছে ম্যানুফ্যাকচাররা। তখন থেকেই বামা ও ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিতে শুরু করে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ম্যানুফ্যাকচারারদের সুবিধা দিয়ে এগ্রোকেমিক্যাল পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমায় সরকার। এছাড়া আমদানি নীতি আদেশে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে 'সিঙ্গেল কান্ট্রি, সিঙ্গেল সোর্স' প্রথা বাতিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
