২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ: ৪২ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান
শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর পর এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে—এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করছে আটটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান।
এসব সম্পদ শনাক্তের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ বা অ্যাটাচ করে অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন৷
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।
জানা গেছে, বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না। তারা বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলে উদ্ধারকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে। অর্থাৎ, 'নো উইন, নো পে' ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, 'প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।'
তিনি জানান, বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আলোচ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, প্রকৃতি ও পরিমাণ শনাক্ত করছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কোনো সম্পদ শনাক্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ বা অ্যাটাচ করা সম্ভব হলে, পরবর্তীতে তা বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।
এর আগে, প্রথম পর্যায়ে শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ গ্রুপের পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট ইউনিট এবং আয়কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোও বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে।
