নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন: রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে এমডি পদে শুধু প্রার্থী মনোনয়ন দেবে সরকার, নিয়োগ দেবে পর্ষদ
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে সোনালী, জনতাসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি বা সিইও পদে সরকার আর সরাসরি নিয়োগ দেবে না; কেবল প্রার্থী 'মনোনয়ন' দেবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র ইস্যু করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ।
অন্য ব্যাংকগুলো হলো- অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) পিএলসি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সম্প্রতি জারি করা এক নীতিমালায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। ব্যাংক খাতে শীর্ষ পদে স্বচ্ছতা আনা, পেশাদারত্ব বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা ফেরাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এমডি মনোনয়নের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মনোনয়ন কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা, পেশাগত রেকর্ড পর্যালোচনা করবে এবং সাক্ষাৎকার (ভাইভা) গ্রহণের মাধ্যমে নম্বর দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করবে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি সুপারিশ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। অনাপত্তি মিললেই ব্যাংক পর্ষদ চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করবে।
তবে কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিশেষায়িত ছয়টি ব্যাংক এবং বিএইচবিএফসি ও আইসিবি—এ দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিদের নিয়োগ বরাবরের মতো সরকারই দেবে।
এমডি প্রার্থীর ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং বা ব্যবসায় প্রশাসনে (এমবিএ) উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে 'তৃতীয় বিভাগ' গ্রহণযোগ্য হবে না। বয়স হতে হবে সর্বনিম্ন ৪৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৬৫ বছর। নিয়োগ হবে ৩ বছরের চুক্তিতে। গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ, ঋণখেলাপি, দুর্নীতির অভিযোগ কিংবা অর্থ পাচারের সাথে জড়িত থাকলে প্রার্থী অযোগ্য হবেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এমডি পদে পর্ষদ নিয়োগ দিলেও রাষ্ট্রমালিকানাধীন, বিশেষায়িত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে পদোন্নতি ও পদায়ন পরিচালনা করবে সরকারই। ডিরেগুলেশনের অংশ হিসেবে এখন এসব ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বদলে অর্থমন্ত্রীই চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।
নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মেধা ও দক্ষতার যথার্থ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
