এপ্রিলে রপ্তানিতে ৩২.৯২% প্রবৃদ্ধি, তবুও উচ্ছ্বসিত নন রপ্তানিকারকরা
এপ্রিলে রপ্তানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও রপ্তানিকারকদের মধ্যে এতে খুব বেশি উচ্ছ্বাস নেই। তারা বলছেন, গত বছরের এপ্রিলে ঈদের ছুটি থাকায় তখন রপ্তানি কম হয়েছিল, যে কারণে গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় এ বছরের এপ্রিলের রপ্তানি আয় বেশি দেখা যাচ্ছে। এ বছরের এপ্রিলে প্রকৃত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এপ্রিলে রপ্তানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'দুই কারণে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। প্রথম কারণ হলো গত বছর ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর হওয়ায় ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ছিল। ফলে গত বছরের এপ্রিলে রপ্তানি কম হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার পুরো মাসের রপ্তানি ফিগার বড় দেখাচ্ছে।'
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, 'অনেক বায়ার ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছিল। ভালো নির্বাচন হওয়ায় ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। এর প্রভাব এপ্রিলের রপ্তানি আয়ে দেখা গেছে।'
বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, 'প্রকৃত হিসাবে এপ্রিলে ৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে। মে মাসে প্রবৃদ্ধি খুব বেশি হবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধ হলে জুন থেকে রপ্তানি বাড়বে।'
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ)-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলে শামীম এহসান টিবিএসকে বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচনের কারণে ক্রেতাদের অর্ডার বেড়েছে। আগের মাসগুলোতে অর্ডার কম থাকায় বায়ারদের শেলফ ফাঁকা হয়ে গেছে এবং এপ্রিল-মে মাসে তারা মূলত শীতের পোশাক আমদানি করে থাকে। এটাই এপ্রিলে রপ্তানি বাড়ার প্রধান কারণ।'
তিনি বলেন, 'এবার মে মাসে ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় ওই মাসে প্রবৃদ্ধি খুব বেশি আশা করা যায় না। তবে এখন রপ্তানি অর্ডার স্লো আসছে, যার প্রভাবে জুনের পর থেকে প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। সব কিছু নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর।'
বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, 'গত এপ্রিল মাসে আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, তা মূলত আগের মাসে রপ্তানি কম হওয়ার কারণে হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'মার্চ মাসে রপ্তানি কমার প্রধান কারণ ছিল ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমাদের কারখানাগুলোতে প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং রপ্তানি কম হয়েছে, যার প্রভাব এপ্রিল মাসে এসে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ মার্চ মাসে শিপমেন্ট না হওয়া পণ্যসমূহ এপ্রিলে শিপমেন্ট হয়েছে।'
মোহাম্মদ হাতেম আরও যোগ করেন, 'আমাদের জানামতে, কোনো কারখানাতেই অতিরিক্ত অর্ডার আসেনি কিংবা হঠাৎ করে নতুন ক্রেতার চাপও বাড়েনি। আমরা মনে করছি, চলতি মাস শেষে আবারও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। কারণ, এই মাসের শেষ সপ্তাহে আবার একটি বড় ছুটি থাকবে, যার ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। রপ্তানির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হলে আমাদের জুলাই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, মে মাসের ঈদের প্রভাবের কারণে জুন মাসেও রপ্তানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।'
উল্লেখ্য, টানা আট মাসের নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে গেল এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের ব্যাপক চাহিদা এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে বছরভিত্তিক রপ্তানি আয় ৩২.৯২ শতাংশ বেড়ে ৪০১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মাসভিত্তিক রপ্তানি আয়ও গত মাসের ৩৪৮ কোটি ডলারের তুলনায় ১৫.২০ শতাংশ বেড়েছে।
