ফার্নেস অয়েলের দাম ১৮ শতাংশ কমাল বিইআরসি
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ফার্নেস অয়েলের দাম ১৮ শতাংশ কমিয়েছে। ফলে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের মূল্য ৮৬ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকা ১০ পয়সায়। এই মূল্য সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শিল্পকারখানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নতুন দর আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।
গত মাসে গণশুনানির পর প্রথমবারের মতো বিইআরসি ফার্নেস অয়েলের মূল্য নির্ধারণ করল। এর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প জ্বালানির দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসি বছরে প্রায় ৮–৯ লাখ টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করে থাকে। এর বড় অংশ সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে যায়, আর একটি অংশ বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হয়।
দাম কমানোর সিদ্ধান্তটি আসে গত ২৯ জানুয়ারির উত্তপ্ত গণশুনানির পর। ওই শুনানিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিপিসির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ তোলে।
বিপিডিবির অভিযোগ, গত দেড় বছরে সরবরাহের প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৬৪৪ কোটি টাকা বেশি আদায় করা হয়েছে।
বিপিডিবির কর্মকর্তাদের মতে, এই সময়ে বিপিসি প্রতি লিটার ৮৬ টাকা নির্ধারিত মূল্য বজায় রাখলেও—বিভিন্ন মাসে তাদের আমদানি ব্যয় ছিল ৫৭ থেকে ৮৩ টাকার মধ্যে। এ প্রেক্ষাপটে বিপিডিবি প্রতি লিটার ৫০ টাকা ৮৩ পয়সা মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল।
অন্যদিকে বিপিসি মাত্র ১ টাকা কমিয়ে ৮৫ টাকা করার প্রস্তাব দেয়।
এরপরে বিইআরসি তার রায়ে, তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর মার্জিন ও পরিবহন চার্জও নির্ধারণ করে দিয়েছে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড প্রতি লিটারে ৭১ পয়সা মার্জিন এবং ১ টাকা ২০ পয়সা পরিবহন চার্জ পাবে।
নতুন কম দামে ফার্নেস অয়েল সরবরাহ শুরু হলে, বিদ্যুৎ উৎপাদক ও শিল্পখাতের ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
