একীভূত হতে যাচ্ছে দেশের সব বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা, বাস্তবায়ন শুরু ২০২৬-এর এপ্রিলে
দেশের সব বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ সংক্রান্ত রোডম্যাপ [রূপরেখা] অনুমোদন দেওয়া হবে এবং এপ্রিল মাস থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা শিল্প স্থাপন–সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষসহ একাধিক সরকারি সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে বেজা, বেপজা ও হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে শিল্প প্লট বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ফলে জমির জন্য বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, যা একদিকে জটিল এবং অন্যদিকে সময়সাপেক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে সরকার 'সেন্ট্রাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি' (আইপিএ) বা কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনের মাধ্যমে সব সংস্থাকে একীভূত করার পরিকল্পনা করেছে।
বিডার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে একাধিক সংস্থা মূলত একই ধরনের কাজ করছে। এককভাবে বিনিয়োগকারীদের সব চাহিদা পূরণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সংস্থাগুলো একীভূত হলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ সহজ হবে, নীতি–নির্ধারণ আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মকর্তাদের কারিগরি দক্ষতা ও তথ্য-উপাত্তের সমন্বয় বাড়বে।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি ইতোমধ্যে সংস্থাগুলোর একীভূতকরণ চূড়ান্ত করেছে। গত ১৩ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ডের তৃতীয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সভায় বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, সংস্থাগুলো আলাদাভাবে পরিচালিত হওয়ায় বিনিয়োগ কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয়ে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
সে সময় প্রধান উপদেষ্টা জানান, এ বিষয় পর্যালোচনার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে মতামত নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, 'এটি একটি মেগা অথরিটিতে [বড় কর্তৃপক্ষ] রূপ নেবে। একটি বড় কর্তৃপক্ষ ভালো হতে পারে, তবে এর নেতৃত্ব যদি ভুল মানুষের হাতে পড়ে, তবে তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।'
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার পরই এপ্রিলে শিল্প উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয় এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়।
বিডার নির্বাহী সদস্য ও ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'কাঠামোগত (স্ট্রাকচার) কাজ শেষ হয়ে গেছে। দেশের সব বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা একীভূত করার কার্যক্রম আগামী এপ্রিল মাস থেকেই বাস্তবায়ন শুরু হবে।'
এদিকে, সাভারের ট্যানারি শিল্প পার্কের ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) হাত থেকে বেপজার কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে এবং চলতি মাসেই তারা এ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা জমা দেবে।
এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'সাভার ট্যানারি শিল্পকে বেপজার অধীনে আনার সুবিধা–অসুবিধা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আমরা মূলত চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি—নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালন ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং আইনি ও আর্থিক দিক।'
