শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারের দাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার
কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহত ও নিহতদের স্বজনেরা প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'গণহত্যার নির্দেশদাতা' হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে ফিরিয়ে এনে বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে 'শহীদ পরিবার ও নিপীড়িত ছাত্র-জনতা' ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
নিহতদের স্বজনরা জানান, তারা এখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কোন ধরনের দৃশ্যমান কিংবা কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছেন না। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতার ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ গণহত্যায় জড়িত সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সবাইকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করা এবং গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগ ও দলটির অংগসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা।
এছাড়া শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা, শহীদদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও মাসিক আর্থিক সহয়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, শহীদদের রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া, বৈষম্য প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুণগত পরিবর্তন করা এবং জাতিসংঘের অধীনে গণহত্যার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করারও দাবি জানানো হয়েছে মানববন্ধনে।
মানববন্ধনে মধ্যবাড্ডায় নিহত হওয়া হাফিজুর রহমানের বাবা বলেন, "যে খুনিরা পরিকল্পনা করে আমার ছেলের মতো হাজারো ছাত্রকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শান্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং আমাদের কষ্ট লাঘবের ব্যবস্থা করতে হবে।"
শনির আখড়ায় নিহত হওয়া জুয়েলের বোন শারমিন সুলতানা বলেন, "এই আন্দোলনে শুধু ছাত্ররা শহীদ হয়নি, অনেক কর্মজীবীও শহীদ হয়েছেন। আমার ভাই নিহত হওয়ার পরেরদিন থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে মৃত্যু সনদের জন্য ঘুরছি। অথচ কর্তৃপক্ষ পোস্টমর্টেমের কথা বলে দিচ্ছে না। আমাদের দাবি, শহীদের পরিবারকে যেন কোনোভাবে হয়রানি করা না হয়।"
