তিন মেয়েসহ অনাগত সন্তান নিয়ে উদ্বিগ্ন আতিকের পরিবার
তিন মেয়েসহ অনাগত সন্তান নিয়ে উদ্বিগ্ন সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি এমভি আবদুল্লাহর চিফ অফিসার মো. আতিক উল্লাহ খানের পরিবার।
আজ বুধবার সকালে টিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আতিকের মা শাহনুর বেগম বলেন, 'গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সর্বশেষ ফোনে কথা বলে আমার ছেলে। তখন সে বলে, '৫০ জন জলদস্যু আমাদের ঘিরে রেখেছে। তারা এখনও আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি। কিন্তু আমাদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখাচ্ছে।'
সে আরও বলে, 'আমরা এখন সোমালিয়া থেকে ৬০০ নটিক্যাইল মাইল দূরে আছি। আমাদের জাহাজ সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সোমালিয়া পৌঁছাতে আড়াই দিন সময় লাগবে। তারা আমাদের সবার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নিচ্ছে। তাদের যদি টাকা দেওয়া না হয়, তাহলে তারা একজন একজন করে আমাদের মেরে ফেলবে। যত তাড়াতাড়ি টাকা দেওয়া হবে, তারা তত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে দেবে। তোমরা আমাদের জন্য টেনশন করো না।'
এরপর পাঁচ সেকেন্ডের একটি ভয়েস রেকর্ড পাঠান আতিক। সেখানে আতিক বলেন, 'ওরা ফোন নিয়ে ফেলতেছে মনে হয়। বুঝছো? দোয়া করো, ফোন নিয়ে ফেলতেছে।'
আতিকের মা বলেন, 'সর্বশেষ ভয়েস রেকর্ড শুনার পর থেকে আমাদের নির্ঘুম সময় কাটছে। পরিবারের সবাই আতঙ্কিত। তার কোনো ক্ষতি হবে, সেটা আমরা ভাবতেই পারছি না।'
২০১৭ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আতিকই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।
তাঁর তিন কন্যা সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে এবং মেজ মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। আতিকের ছোট মেয়ের বয়স দুই বছর। তার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
আতিকের মা আরও বলেন, 'আমার ছেলের কিছু হলে পুরো পরিবার, বিশেষ করে চার সন্তানের কি হবে? তা নিয়ে ভাবতেই আতঙ্কিত হয়ে উঠছি। তাই কোম্পানিসহ সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমার ছেলেসহ ২৩ জন নাবিক যাতে অক্ষত অবস্থায় সবার পরিবারের কাছে ফিরে আসে।'
আতিকের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ নুর খান আসিফ বলেন, 'বড় ভাই (আতিক) ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত একটানা কাজ করেছেন এস আর শিপিংয়ে। মাঝখানে প্রায় তিন বছর একটি বিদেশি জাহাজ কোম্পানিতে চাকরি করেন। কিন্তু দেশি জাহাজ হলে পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারবেন বলে সর্বশেষ গত নভেম্বরে আবারও এসআর শিপিংয়ে যোগ দেন। এরপর ২৫ নভেম্বর এমভি আবদুল্লাহ-তে ওঠেন।'
আসিফ বলেন, 'আমার পড়ালেখাসহ পরিবারের সাত সদস্যের খরচ চলে ভাইয়ার আয়ে। ভাইয়ার কোনো ক্ষতি হোক সেটা আমরা কল্পনাই করতে পারছি না।'
গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি আতিক কিংবা জাহাজের অন্য কোনো নাবিকের সাথে।
এমভি আব্দুল্লাহর প্রধান কর্মকর্তা (চিফ অফিসার) আতিকের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় তার স্ত্রীর সর্বশেষ কথা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুরা বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ নেয়। জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে দুবাই যাচ্ছিল।
জলদস্যুদের কবলে পড়া চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের এই জাহাজটি পরিচালনা করছে গ্রুপটির সহযোগী সংস্থা এস আর শিপিং লিমিটেড।
জাহাজে আতিকসহ ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। তাদের জিম্মি হওয়ার খবরে স্বজনদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে।
আতিকের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশের বরকল এলাকায়। মা, স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে তিনি থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন এলাকায়।
