যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় তিন মামলা
লালমনিরহাটের বুড়িমারী পাটগ্রাম উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে আবু ইউনুছ মো: সাহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর তার মৃতদেহ আগুন দিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে।
সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েক'শ ব্যক্তির নামে দিয়ে মামলা করেছে পাটগ্রাম থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের শহীদ আফজাল হলরুমে প্রশাসনিক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওহাব ভূঞা, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচার্য্য, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর, পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা, পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল, ইউএনও কামরুন নাহার, ওসি সুমন কুমার মোহন্ত ও উপজেলার ইমাম মোয়াজ্জেমসহ ৫ শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের ঘটনায় পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নেওয়াজ নিশাত বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একই থানায় মামলা করেছে।
অন্যদিকে, নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা আরও জানান, এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত কয়েকজনের নাম উল্লেখা করে হত্যাকাণ্ড ঘটানো, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনটি মামলা করা হয়েছে।
মৃতদেহ পোড়ানোর কারণে দেহাবশেষ যেটুকু পুলিশ উদ্ধার করতে পেরেছে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট শেষ হয়েছে। এই দেহাবশেষ শনিবার যেকোনো সময় নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবারের ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পাটগ্রামের পরিস্থিতি থমথমে। গোটা উপজেলায় পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপি মোতায়েন রয়েছে।
পাটগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার মহন্ত জানান, এ ঘটনার ভিডিও দেখে পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে তারা সন্দেহভাজনদের পরিচয় খুঁজছেন।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, জড়িতদের অতি দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
