পাচার হওয়া তিন বাংলাদেশি কিশোরীকে ফেরত দিল ভারতীয় পুলিশ
সম্প্রতি ভারতে পাচার হওয়া তিন বাংলাদেশি কিশোরীকে সেখানকার শেল্টার হোমের আশ্রয় থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিএসএফ সদস্যরা যৌথভাবে তাদেরকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
বর্তমানে এই তিন কিশোরী ‘জাস্টিস এন্ড কেয়ার’ নামে একটি এনজিও সংস্থার তত্ত্বাবধানে যশোরের একটি শেল্টার হোমে রয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস এন্ড কেয়ার’-এর যশোর প্রতিনিধি মুহিত হোসেন উদ্ধারপ্রাপ্ত কিশোরীদের মধ্যে যশোরের একজনের কথা জানান। পরিবারে অভাব অনটনের কারণে মাত্র ১৩ বছর বয়সের মেয়েটির বিয়ে দেয় তার পরিবার। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ‘পূর্ব পরিকল্পনা’ অনুযায়ী বিয়ের এক মাসের মাথায় মেয়েটিকে ভারতে ‘পাচার’ করে। ট্রেনেই বিষয়টি বুঝতে পেরে কিশোরী কাঁদতে শুরু করেন। স্থানীয়রা তখন তাকে উদ্ধার করে ভারতীয় পুলিশের হাতে তুলে দেন।
উদ্ধার হওয়ার পর গত ৭ মাস ভারতীয় একটি শেল্টার হোমে ছিলেন তিনি।
অন্য দুই কিশোরী সম্পর্কে মুহিত জানান, এক বছর আগে ‘ভালো কাজের’ প্রলোভনে দুই কিশোরী কন্যাকে নিয়ে ভারতে যান পিরোজপুরের এক নারী। এ সময় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে মায়ের আশ্রয় হয় জেলে ও মেয়েদের শেল্টার হোমে। সেখান থেকে দু’দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় স্বদেশ প্রত্যাবাসন আইনে মেয়েরা দেশে ফেরার সুযোগ পান। তবে ওদের মা থেকে যান ভারতের কারাগারে। সাজা শেষ হলেই মুক্তি মিলবে তার।
বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বলেন, “কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদেরকে পরিবারের কাছে পৌছে দেওয়া হবে। এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এনজিও কর্মকর্তারা ওদের দায়িত্ব নিয়েছেন।”
