ঈদের পর কোভিড পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির গতি ঈদের পর আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম।
আজ রোববার (৯ মে) এক নিয়মিত বুলেটিনে তিনি এমন শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
"যে ভ্যারিয়েন্টটি আমরা চিহ্নিত করেছি, আমরা মনে করি, ভ্যারিয়েন্ট যা-ই হোক না কেন, চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রায় কাছাকাছি থেকে গেছে। খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। আমরা সংক্রমণের এই শৃঙ্খল যদি ভেঙে দিতে না পারি, আজ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট এসেছে, কাল নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে। আমাদের রোগীর সংখ্যা কিন্তু কমবে না। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, উপকরণ, জনবল কিন্তু অসীম নয়।"
গত কয়েকদিন ধরে পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ শনাক্তের হারে ১০ শতাংশের নিচে আছে, এই পরিস্থিতি আশার আলো দেখালেও, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার কোনো সুযোগ নেই, বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ করে, ঈদে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ফিরতে মানুষের ভিড় মারাত্মক আকারে সংক্রমণ ছড়াবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
নাজমুল হাসান বলেন, লকডাউন শিথিল করা হলে ঈদের পর কোভিড পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।
দেশের সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের আর বাকি পাঁচ দিন। প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছাড়ছেন সাধারণ মানুষ।
তবে ভাইরাসের নতুন ধরনের আবির্ভাব এবং সংক্রমণ ঢেউয়ে কোভিড মহামারির বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবার গত বছরের চাইতেও ভয়ঙ্কর। বিশেষত, দক্ষিণ এশিয়ায় দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি।
এই অবস্থায় সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গ এবং নতুন ধরনের বিস্তার রোধে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং শিমুলিয়া- বাংলাবাজার রুটে ঘরমুখী মানুষের ভিড় ঠেকাতে আজ রোববার থেকেই বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করেছে সরকার।
ইতঃপূর্বে গত ৬ এপ্রিল থেকে লকডাউন জারি করে সরকার। দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে পরবর্তীতে তা কয়েক ধাপে বাড়ানো হয়।
সর্বশেষ গত ১৬ মে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়।
