বার্সাকে বিধ্বস্ত করে সেমি ফাইনালে বায়ার্ন
শুধু প্রতিপক্ষের জালেই নয়, নিজেদের জালেও বল পাঠালো বায়ার্ন মিউনিখ। তবু বার্সেলোনার সঙ্গে তাদের ব্যবধানটা হলো আকাশ-পাতাল। বায়ার্নের সামনে স্প্যানিশ জায়ান্টরা হয়ে উঠেছিল 'গোলির' কোনো ক্লাব। যে ক্লাবটি বায়ার্নের আক্রমণ বিভাগকে সামলাতে না পেরে একের পর এক গোল হজম করেই গেছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। এক লেগের কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে শেষ চারে উঠে গেছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। গোল উৎসব করার ম্যাচে বায়ার্নের হয়ে দুটি করে গোল করেন থমাস মুলার ও ফিলিপে কোটিনহো। এ ছাড়া একটি করে গোল করেন ইভান পেরিসিক, সার্গে জিনাব্রি, জুসয়া কিমিচ ও রবার্ট লেভানোডোভস্কি।
শুক্রবার রাতে কেবল গোল দিতেই যেন মাঠে নেমেছিল বায়ার্ন। জাল পেলেই সেখানে বল পাঠিয়ে দিয়েছে তারা। নিজেদের জালেও বল জড়িয়েছে জার্মানসেরা ক্লাবটি! বার্সার দেওয়া দুটি গোলের একটি উপহার হিসেবে পাওয়া। দলকে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়ান বায়ার্নের ডেভিড আলাবা।
এ ম্যাচে বার্সেলোনা স্রেফ উড়ে গেছে। বায়ার্নের সামনে চরম অসহায় দেখিয়েছে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, ইভান রাকিটিচদের। অথচ আগের ম্যাচেই নাপোলির বিপক্ষে অসাধারণ ফুটবল খেলে কাতালানরা। কিন্তু এই ম্যাচে বায়ার্নের আক্রমণের সামনে বার্সা পুরো ভিন্ন একটি দল মনে হয়েছে।
কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচে বায়ার্নের গায়েই ছিল ফেবারিটের তকমা। এটা বার্সা ভক্তরা তো স্বীকার করেছেনই, বার্সার খেলোয়াড়রা পর্যন্তও অস্বীকার করার সাহস দেখাননি। কিন্তু ফলটা এমন আকাশ-পাতাল হবে, সেটা নিশ্চয় কল্পনাতেও ভাবেননি মেসি-গ্রিজম্যানরা।
এমন হার দীর্ঘদিন দেখেনি বার্সেলোনা। অন্যান্য সময় প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসানো মেসিরাই এবার জার্মান স্রোতে ভেসে গেলেন। যে স্রোত তাদেরকে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে ৭৪ বছর আগে। সর্বশেষ ১৯৪৬ সালে ৮ গোল হজম করে বার্সা।
সেটা অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ ছিল না। কোপা দেলরের ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে ৮ গোল খেয়ে বিদায় নিয়েছিল কাতালানরা। তবে মেসি-সুয়ারেজদের এমন অভিজ্ঞতা কখনই হয়নি। শুধু মেসি-সুয়ারেজরাই নন; এই অভিজ্ঞতা ক্রুইফ, রোমারিও, রোনালদো, পুয়োল, রোনালদিনহো, রিকেলমে, রিভালদোদেরও হয়নি।
ম্যাচের চার মিনিটেই এগিয়ে যায় বায়ার্ন। লেভানোডোভস্কির কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ শটে গোল করেন থমাস মুলার। এই ব্যবধান বেশি সময় থাকেনি বায়ার্নের ভুলেই। দলকে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে ৭ মিনিটের মাথায় নিজেদের জালেই বল পাঠান ডেভিড আলাবা।
ম্যাচে সমতা ফেরার পরই ফুঁসে ওঠে বায়ার্ন। মুর্হুর্মুহ আক্রমণ সাজাতে থাকে জার্মান ক্লাবটি। ম্যাচের ২১ মিনিটে বাঁ পায়ের দারুণ এক শটে গোল করেন ইভান পেরিসিক। ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়া বায়ার্নকে কয়েক মিনিট পর আরও এগিয়ে দেন সার্গে জিনাব্রি। ম্যাচের ২৭ মিনিটে গোল করেন তিনি।
৫ মিনিট পর আবারও মুলারের হানা। ৩১ মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৪-১ করেন জার্মান এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে আর গোল হয়নি। বিরতির পর বার্সাকে কিছুটা গোছালো মনে হয়েছে। ৫৭ মিনিটে সুয়ারেজের গোলে ব্যবধানও কমায় স্প্যানিশ ক্লাবটি। কিন্তু ৬০ মিনিট পেরেতোই দুঃস্বপ্ন আবারও ফিরে আসে বার্সা শিবিরে।
৬৩ মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৫-২ করেন জসুয়া কিমিচ। এরপর কিছুটা সময় গোল হজম করতে হয়নি বার্সাকে। ৮০ মিনিটের পর শুরু হয় বায়ার্নের গোল উৎসব। ৮২ মিনিটে গোল করেন লেভানোডোভস্কি। এরপর চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেন ফিলিপে কোটিনহো। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের ৮৫ ও ৮৯ মিনিটের করা গোলে ৮-২ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন।
