ইউক্রেনকে উড়িয়ে শেষ চারে ইংল্যান্ড

পুরো ম্যাচে ইউক্রেন কেবল শাসনই হজম করে গেল। আর কিছুক্ষণ পরপর তাদের জালে বল পাঠিয়ে গোল উৎসব করে গেল ইংল্যান্ড। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারলো না ইউক্রেন। দাপুটে জয়ে সেমি-ফাইনালে উঠে গেল গ্যারেথ সাউথগেটের দল।
শনিবার রাতে ইতালির রোমের স্তাদিও অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে শেষ কোয়ার্টার-ফাইনালে ইউক্রেনকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের হয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। একটি করে গোল করেন হ্যারি মাগুইরে ও জর্ডান হেন্ডারসন।
দাপুটে এই জয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাকে ছুটিতে পাঠালো ইংল্যান্ড। অসাধারণ ফুটবল খেলতে থাকা ইংল্যান্ড ২৫ বছর পর ইউরোর সেমি-ফাইনালে উঠলো। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে শেষ চারে খেলে থ্রি লায়ন্সরা। এরপর আর শেষ আটের গন্ডি পেরনো হয়নি তাদের। এবার জার্মানিকে বিদায় করে শেষ আটে ওঠা ইংল্যান্ড গোল উৎসব করে শেষ চারের টিকেট কাটলো।
ম্যাচের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে অবশ্য ইউক্রেনকে খুব বেশি পিছিয়ে রাখা যাবে না। কিন্তু ইংল্যান্ডের মতো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আন্দ্রে শেভচেঙ্কোর দল। ম্যাচে ৫২ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখে ইংল্যান্ড। গোলমুখে নেওয়া ইংলিশদের ১০টি শটের ৬টি ছিল লক্ষ্যে। প্রথমবারের মতো ইউরোর শেষ আটে ওঠা ইউক্রেন ৭টি শট নেয়, এর মধ্যে দুটি ছিল লক্ষ্যে।
চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বাম প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে ডি-বক্সে বল বাড়ান রাহিম স্টার্লিং। ফাঁকায় বল পেয়ে যান হ্যারি কেইন। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান ইংলিশ অধিনায়ক। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে তৃতীয় বারের মতো ইউরো খেলা ইউক্রেন। খেলার গতি বাড়িয়ে বল চাপাতে থাকে তারা। কিন্তু পরিষ্কার কোনো আক্রমণ সাজাতে পারছিল না দলটি।
১৭তম মিনিটে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে যান ইউক্রেনের রোমান ইয়ারেমচুক। বাম প্রান্ত দিয়ে একাই বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন ইউক্রেনের এই স্ট্রাইকার। কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে দলকে বাঁচান ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
২২তম মিনিটে পাসের পসরা সাজিয়ে দারুণ একটি আক্রমণ করে ইংল্যান্ড। গোছালো আক্রমণে ইউক্রেনের ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে তারা। বাম পাশ থেকে দারুণ একটি ক্রস বাড়ান লুক শ। কিন্তু ডান প্রান্ত থেকে শট নেওয়ার মতো কেউ ছিল না। ২৯তম মিনিটে লক শয়ের ফ্রি কিকে হ্যারি কেইন হেড নিলেও গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়।
৩৩তম মিনিটে বাম পাশ দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ক্রস বাড়ান স্টার্লিং। কেউ শট নিতে পারেননি। জটলা থেকে বল পান ডি-বক্সের বাইরে থাকা ডেকলান রাইস। ডিফেন্সিভ এই মিড ফিল্ডার বুলেট গতির এক শট নেন, ফিস্ট করে ইউক্রেনকে বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক হিওরিহ বুশচান।
৪৩তম মিনিটে দারুণ আক্রমণ সাজিয়েও কিছু করতে পারেনি ইউক্রেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বল পেয়ে শট নেন মাইকো শাপারেঙ্কো। কিন্তু ইউক্রেনের মিডফিল্ডারের শট অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়।
বিরতি থেকেই ফিরেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪৬তম মিনিটে ডি-বক্সের একটু দূরে হ্যারি কেইনকে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় ইংল্যান্ড। লুক শয়ের দারুণ ফ্রি কিকে হেড করে বল জালে জড়ান ইংলিশ সেন্টার ব্যাক হ্যারি মাগুইরে।
একটু পর আবারও ইংলিশদের গোল উৎসব। ৫০তম মিনিটে ডি-বক্সের বাম পাশ থেকে লুক শকে বল বাড়ান স্টার্লিং। বাঁ পায়ে আলতো করে বল তুলে দেন পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ সব বলের যোগান দেওয়া শ। হেডে গোল আদায় করে নিতে কোনো সমস্যাই হয়নি হ্যারি কেইনের। চলতি ইউরোতে এটা তার পঞ্চম গোল। যা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
৬২তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়ে যেতে পারতো হ্যারি কেইনের। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে অসাধারণ একট শন নেন ইংলিশ এই ফরোয়ার্ড। ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে দলকে বাঁচান ইউক্রেনের গোলরক্ষক। কিন্তু এই কর্নারই কাল হয়। কর্নার শটে হেড দিয়ে দলের পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেন বদলি হিসেবে কিছুক্ষণ আগেই মাঠে নামা জর্ডান হেন্ডারসন।
৭৪তম মিনিটে ইউক্রেনের ইয়েবহেনি মাকারেঙ্কোর নেওয়া বুলেট গতির শট ফেরান পিকফোর্ড। বাকিটা সময়ে ইংল্যান্ডে সেভাবে আর আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করেনি। ইউক্রেনও রক্ষণ সামলে খেলতে থাকে। কোনো দলই আর গোলের দেখা পায়নি।