স্মার্ট ফোন হাতে আক্রান্ত রাজধানী রক্ষায় এক প্রেসিডেন্ট
কিয়েভের বুকে রাশিয়ান মিসাইল-বৃষ্টির পরদিন সকালে ইউক্রেনিয়ান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন তার সবচেয়ে প্রিয় স্টাইলে: সেলফি ভিডিওর মাধ্যমে।
পরনে খাকি জ্যাকেট, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। স্মিত হেসে জাতিকে বলেছেন যে, তার পালিয়ে যাওয়ার খবর ভুয়া, তিনি রাজধানীতেই থাকছেন।
ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, 'সব ইউক্রেনীয়কে শুভ সকাল! সম্প্রতি অনলাইনে প্রচুর ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যে, আমি আমাদের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র নামিয়ে রেখে সরে পড়তে বলেছি। শুনুন। আমি এখানেই আছি।'
ভিডিওটি মাত্র এক ঘণ্টায় ৩ মিলিয়ন ভিউ লাভ করে।
কিয়েভের প্রেসিডেন্সিয়াল অফিসের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশে ওই ভিডিওবার্তা পাঠান জেলেনস্কি।
সংকটের শুরুতে কিছু ইউক্রেনীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে লড়াইয়ের শুরুতেই হেরে বসে আছেন।
প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বন্ধু দেশের সমালোচনা করায় তিনি নিজেও সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন।
কিন্তু অগ্রসরমান রুশ বাহিনীর মুখেও কিয়েভ ছেড়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যথাসম্ভব শান্তভাবে উপস্থিত হয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন জেলেনস্কি। এমনকি সমালোচকরাও তার প্রশংসা করেছে।
ইতিহাসের অধ্যাপক টিমোথি সিন্ডার টুইটারে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে লিখেছেন, 'এরপর যা-ই ঘটুক না কেন, তিনি নিজেই যে টার্গেট—এ কথা জানা থাকা সত্ত্বেও ভয়াবহ আক্রমণের মধ্যেও নিজের রাজধানীতে, নিজের জনগণের সঙ্গে থেকে যাওয়ার যে সাহস ভলোদিমির দেখিয়েছেন, ইতিহাস তা মনে রাখবে।'
ওলেনা হালুশকা নামক এক অ্যাকটিভিস্ট টুইটারে লিখেছেন, 'আমি যে কখনও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তাকে (জেলেনস্কিকে) নিয়ে গর্ব বোধ করব, তা কখনও কল্পনাও করতে পারিনি।'
রুশ হামলার পর থেকেই জেলেনস্কি সময় সময় ভিডিও আপলোড করে ইউক্রেনীয়দের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন।
এর আগের এক সেলফি ভিতিওতে তাকে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে ছিলেন চিফ অভ স্টাফ, প্রধানমন্ত্রী ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, দেশ ছাড়তে বিভিন্ন বিদেশি সরকার সাহায্যের অনুরোধ জানালেও, জেলেনস্কি সেসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ফিরিয়ে দিয়েছেন।
এসব প্রতিবেদনের ব্যাপারে রয়টার্স জেলেনস্কির মুখপাত্রের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট কিয়েভে আছেন, প্রেসিডেন্ট তার জনগণের সঙ্গে আছেন। কেউই পালাবে না কিংবা অস্ত্রও নামিয়ে রাখবে না।'
- সূত্র: রয়টার্স
