বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর।
তিনি জানান, বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি ও তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনের বিষয়ে সরকার আপাতত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি প্রতিবেদনটি এখনও পড়েননি। এতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যেসব কথা বলা হয়েছে, সেগুলো অনুমাননির্ভর হওয়ায় সরকার তা আমলে নিচ্ছে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে 'বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫'-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আল কায়েদা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমি শুনেছি, রিপোর্টটা পড়িনি। সেখানে হয়তো কিছু অবজারভেশন দিতে পারে। আমি না দেখে বলতে পারব না।'
তিনি বলেন, 'আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। রিপোর্টটা এখনও পড়িনি। তাছাড়া আমি যতটুকু শুনেছি, তারা একটা অ্যাজিউম করেছে। অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। তো অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ওপর আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।'
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।'
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'বিগত ১৮০ দিনে সরকার কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, 'ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরবর্তীকালে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।'
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে।'
বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
এসব টার্মিনালের স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।'
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, 'প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।'
বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, 'দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।'
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্য কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'আমিও গুঞ্জন শুনতেছি।'
সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
