কায়রোতে বৈঠকে একসঙ্গে বসে আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখলেন ইসরায়েল ও মিশরের সামরিক কর্মকর্তারা
চলতি সপ্তাহে মিশরের রাজধানী কায়রোতে ইসরায়েল ও মিশরের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের ভাষায় এটি ছিল একটি 'কৌশলগত সংলাপ', যেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, গাজা এবং বিস্তৃত নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'ক্যান নিউজ' জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও এই বৈঠকে দুই দেশের সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং হামাসের সাথে মধ্যস্থতায় মিশর একটি প্রধান ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, সফর চলাকালীন ইসরায়েলি ও মিশরীয় কর্মকর্তারা বিশ্বকাপে মিশর বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি এক সঙ্গে বসে উপভোগ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে শান্তি চুক্তির পর থেকে ইসরায়েল ও মিশরের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা। তবে গাজায় চলমান গণহত্যার ঘটনায় মিশরের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বেড়েছে। মিশরের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি তাদের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।
ক্যান নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল গাজায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মিশরের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করা। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হামাসের বিরুদ্ধে মিশর এখন আগের চেয়ে অনেকটা কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এমনকি হামাসকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি করানোর জন্য একটি প্রস্তাবও দিয়েছেন মিশরীয় কর্মকর্তারা।
এই আলোচনার মধ্যেই হামাস ঘোষণা করেছে, তারা গত দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকা পরিচালনাকারী তাদের সরকারি কমিটি বিলুপ্ত করছে। হামাসের সরকারি সংবাদ মাধ্যমের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা এএফপি-কে বলেন, 'সরকারি জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।'
তিনি আরও জানান, 'ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা'-এর কাছে প্রশাসনিক ও সরকারি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতেই এই কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনসিএজি হলো ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞ বা টেকনোক্র্যাটদের একটি দল, যারা যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতায় গত সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির অধীনে গাজার দৈনন্দিন বিষয়গুলো তদারকি করবে। তবে এই কমিটি এখনো গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং বর্তমানে কায়রো থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১,০৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত গাজায় মোট ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
