কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক–কর কমানোর দাবি ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের
দেশের ইস্পাত শিল্প টিকিয়ে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ খাতে আরোপিত আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করে সংগঠনটি জানায়, আগের বাজেটে আরোপিত এসব কর দেশের ইস্পাত শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের সংকট, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অস্থিরতা, উচ্চ সুদের হার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন পর্যায়ে কর, শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক বছরে দেশের ইস্পাত (রড) শিল্প নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা খাতটিকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে।
সংগঠনটি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৬০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার, রড বিক্রিতে উৎসে কর (টিডিএস) ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামানোর, টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার এবং অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমে ধীরগতিও খাতটিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
শুল্কের বিষয়ে সংগঠনটি জানায়, আগের শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর প্রতি মেট্রিক টনে ১,৮০০ টাকা নতুন ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যা আগে ছিল না।
ইস্পাত খাতকে সহায়তা দিতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট যৌক্তিক করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, রাজস্ব চাপ ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আসন্ন বাজেটে ব্যবসায়ীদের সব দাবি পূরণ করা সম্ভব হবে না। তবে যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, এইচএস কোডের জটিলতা দূর করতে সরকার কাজ করবে এবং অপব্যবহার বন্ধে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি আমদানির মূল্য আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে মিলিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিআরআরএমএ), বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএসআইএ), বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিসিআইএমএ), বাংলাদেশ পেইন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমএ), বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিসিটিআইএমএ), লুব্রিক্যান্টস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলআইএবি), বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএফএ), বাংলাদেশ অ্যাকুয়া প্রোডাক্ট কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিসিএ), বাংলাদেশ মোটর পার্টস অ্যান্ড টিউব মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিটিটিএমএ) এবং ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএসএসএবি)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
