যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে জি২০-র বৈঠকে রাশিয়া, ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় মিত্ররা
ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর তৈরি হওয়া দীর্ঘ বৈশ্বিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে ফের জি২০ জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত এই বৈঠকে মস্কোর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সাথে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বার্ষিক সভার ফাঁকে আয়োজিত জি২০ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের এ বৈঠকে সশরীরে অংশ নেন রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানোভ এবং ব্যাংক অব রাশিয়ার ডেপুটি গভর্নর এলিজাভেটা দানিলোভা। সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির হাতে আসা আসনবিন্যাসের নথিতে দেখা যায়, বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদের মাঝামাঝি আসনে রাশিয়াকে জায়গা দেওয়া হয়।
চলতি বছর জি২০-র সভাপতির দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে দীর্ঘ কূটনৈতিক বয়কট সরিয়ে রেখে মস্কোকে পুনরায় অর্থনৈতিক আলোচনায় স্বাগত জানিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আগামী এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার চুক্তি করায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্ষোভ প্রকাশ করে।
গত বুধবার ইউরোপীয় প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান ডোম্ব্রোভস্কিস বলেন, 'এখন কোনোভাবেই রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সময় নয়।'
ব্যাংককের বৈঠকে মার্কিন উদ্যোগের বিরোধিতা করেন জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবেইল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'রাশিয়া আবার সাধারণ সদস্য হিসেবে জি২০-তে ফিরে এসেছে এবং টেবিলে নিজের আসন দখল করছে—এমন ভান অন্তত আমি বা অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশ মেনে নেবে না।'
এর আগে গত আগস্টে নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলে আয়োজিত জি২০ সম্মেলনেও তিনি রাশিয়ার অর্থমন্ত্রীর সাথে গ্রুপ ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, যার ফলে রাশিয়ান প্রতিনিধি দলকে বাদ দিয়েই ঐতিহ্যবাহী অফিসিয়াল ছবি তোলা হয়েছিল।
এদিকে বৈঠকে অংশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কোষাধ্যক্ষ জিম চালমারস এক বিবৃতিতে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার অন্যায্য ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই বৈশ্বিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ব্যাংককের এই বৈঠকটি কোনো যৌথ ইশতেহার ছাড়াই শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার গভীর মতভেদের কারণেই কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এতে অংশ না নিয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থান করেন।
অবকাঠামোগত ও ভূ-রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে আগামী ডিসেম্বরে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী জি২০ শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে ব্যাংককের এই বৈঠকটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও উন্নত দেশগুলোর রেকর্ড ঋণের মতো বিষয়গুলোতে আলোচনার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেছে।
