সৌদির সঙ্গে মিলে হুথি-বিরোধী অভিযানে যোগ দিতে চান নেতানিয়াহু, যুবরাজ সালমানের আপত্তি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সম্মতি চেয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নিজ দেশের জনগণের সম্ভাব্য তীব্র প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করে ইসরায়েলের এমন সামরিক অংশগ্রহণে আপত্তি জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজকে এক কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে একটি স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ সুগম করা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর আওতায় সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বারবার তৎপরতা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও তার জীবনের শেষ সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধোত্তর রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে এই চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করেছিলেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরতে সৌদির সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর বিষয়টিই ছিল নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে হামাসের সঙ্গে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার অন্যতম কারণ, যার কিছুদিন পরই ৭ অক্টোবরের হামলা ঘটে।
তবে সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো—স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেই কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব।
এদিকে গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে হুথিরা। এ সময় কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা ও বেশ কিছু দ্বীপ তাদের দখলে চলে যায়। এর ফলে বাব এল-মান্দেব প্রণালির ইয়েমেন অংশের নিয়ন্ত্রণ পায় গোষ্ঠীটি। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
পরবর্তীতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার সহায়তায় ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী লোহিত সাগর উপকূলে পাল্টা বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে মোখা শহরটি পুনরুদ্ধার করে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার আঘাত হানা হয়। গত শনিবার সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। এ ছাড়া রোববার একই বিমানবন্দরে চালানো আরেক হামলায় ১ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
শনিবারের ওই হামলার পর সৌদি আরবের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বিবৃতি দেন নেতানিয়াহু। তিনি লেখেন, 'সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তীব্রতম নিন্দা জানাই, যেখানে ১২ জন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।'
এ ছাড়া ইসরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
