নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুপ্রিম কোর্ট ছাড়লেন রাহুল-খাড়গেরা
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে করা আবেদনের আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট ছেড়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব।
সোমবার সন্ধ্যায় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলটি ভগবান দাস রোডে আটকে দেয় পুলিশ। সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে মিছিলটি আটকে দেওয়া হলেও রাহুল গান্ধী ও জোটের অন্য নেতারা আদালতে পৌঁছান। সেখানে রাহুলের আইনি দল আবেদনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপকসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এ আবেদন করা হয়েছে। এর আগে কংগ্রেসের আইনি দল আবেদনটি আদালতে জমা দেয়। এতে প্রধান আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন রাহুল গান্ধী।
আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব।
এদিকে, ইন্ডিয়া জোটের মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। মিছিলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাও অংশ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁর পদত্যাগের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভকারীরা।
মিছিলের আগে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক আন্দোলন হচ্ছে না; বরং এটি একটিমাত্র বিক্ষোভ কর্মসূচি।
রাহুল গান্ধী বলেন, "একাধিক কোনো বিক্ষোভ হচ্ছে না, একটিই বিক্ষোভ—জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে। এরপর প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ—আমরা থামব না।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষকে আটক করার এক দিন পর এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ।
অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের তারিখ চেয়ে সোমবার সংসদ মার্গ থানায় যান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও অশুতোষ রানকাসহ দলটির নেতারা। যন্তর মন্তরে এ বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য তাঁরা পুলিশের কাছে তারিখ চেয়েছেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। দলটি জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণ করে দিতে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে তারা।
এর আগে বিকল্প স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সিজেপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ নতুন তিনটি স্থান নির্ধারণ করে। স্থানগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।
