‘বুদ্ধিমানের কাজ’: রাশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তির পর মার্কিন সাংবাদিককে ‘ভায়াগ্রা দিয়েছিল’ সিআইএ
রাশিয়ার কারাগারে ১৬ মাস বন্দিজীবন কাটানোর পর মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তাকে যে 'রিকভারি কিট' দিয়েছিল, তার ভেতরে একটি ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ছিল বলে জানিয়েছেন মার্কিন সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচ।
২০২৪ সালে এক ঐতিহাসিক বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে ফেরার বিমানের ভেতর তার হাতে ওই বিশেষ প্যাকেজটি তুলে দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের চেল্টেনহ্যাম লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে নিজের আত্মজীবনীমূলক বই 'দিস কার্সড বিউটিফুল ল্যান্ড'-এর প্রচারণাকালে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই সাংবাদিক সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান।
ইভান বলেন, 'সাধারণত এই রিকভারি কিটগুলো তৈরি করে পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে এই কিটগুলো প্রস্তুত করেছিল সিআইএ। আর আমার প্যাকেটের ভেতরে তারা দিয়েছিল ভায়াগ্রা। হয়তো এটা বুদ্ধিমানের কাজ ছিল—ট্রমার ভেতর দিয়ে যাওয়া কোনো ব্যক্তি বহু বছর পর বাড়ি ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বা এমন কিছু। নাকি সিআইএ বিদেশে তাদের অভিযানের সময় এগুলো সঙ্গে নিয়ে ঘোরে? আমরা কোনোভাবেই এর আসল কারণ মেলাতে পারিনি।' তিনি আরও জানান, মুক্তির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সেই ট্যাবলেটটি তিনি এখনও সংরক্ষণ করে রেখেছেন।
মুক্তির পর বিমানে ফেরার সময় ইভানের পছন্দের কথা বিবেচনা করে তার মায়ের অনুরোধে এক কর্মকর্তা তাকে 'হাই ওয়েস্ট ক্যাম্পফায়ার' ব্র্যান্ডের এক বোতল হুইস্কি উপহার দিয়েছিলেন। তবে সিআইএ কর্মকর্তারা তাঁকে সেটি পানে বাধা দেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নামার পরপরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা ছিল তার, যার জন্য তাকে সম্পূর্ণ সজাগ ও মদ্যপানমুক্ত থাকতে বলা হয়েছিল।
২০২৩ সালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি) ইভানকে গ্রেপ্তার করে এবং কঠোর নিরাপত্তার একটি কারাগারে তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও তার পত্রিকা সবসময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। পরবর্তীতে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর হওয়া সবচেয়ে বড় বন্দিবিনিময়ের অংশ হিসেবে ১৬ মাস পর তিনি মুক্তি পান।
কারাগারের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, নিয়মিত বই পড়া, নোট নেওয়া এবং ব্যাকগ্যামন খেলার মাধ্যমে তিনি একটি রুটিন তৈরি করেছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর মানসিকভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাকে ১৬ মাস থেরাপি নিতে হয় এবং তার পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) ধরা পড়েছিল।
রুশ গোয়েন্দাদের কোনো ভয় এখন আর তাড়া করে কি না—এমন প্রশ্নে ইভান জানান, রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক দরকষাকষির জন্য একটি 'উপযোগী ঘুঁটি' হিসেবে তার উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেছে, ফলে এখন তিনি নিজেকে পুরোপুরি নিরাপদ মনে করছেন।
