সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সরাসরি সম্প্রচার ‘ব্লক’ করার কথা ভাবছে বিভিন্ন দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক একজন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের (লাইভস্ট্রিম) সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে তা বন্ধ বা ব্লক করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে অধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি থাকলেও নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সেন্সর সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এই সম্প্রচার দেখা ঠেকানোর মতো আইনি এখতিয়ার তাদের নেই।
২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যা ও ৩২ জনকে আহত করার দায়ে সাবেক সেনা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার পেন্টাগন জানায়, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন।
অনলাইনে তরুণদের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষার বৈশ্বিক উদ্যোগের মধ্যে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। প্রথম প্রতিক্রিয়া হিসেবে নিউজিল্যান্ডের স্বতন্ত্র সরকারি সংস্থা 'ক্লাসিফিকেশন অফিস' জানায়, ইন্টারনেট লাইভ সম্প্রচার চলাকালে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
এক বিবৃতিতে সংস্থার মুখপাত্র বলেন, 'লাইভস্ট্রিম চলাকালীন ক্লাসিফিকেশন অফিস সেটিকে সেন্সর করতে পারে না। এছাড়া এই ধরনের লাইভস্ট্রিম আটকে দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের বা অন্য কোনো সংস্থার নেই।'
দেশটির প্রধান সেন্সর ক্যারোলিন ফ্লোরা জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সম্ভাব্য ক্ষতির ভারসাম্য রক্ষা করতে হয় বলে কনটেন্ট নিষিদ্ধের আইনি মানদণ্ড বেশ কঠিন। তিনি বলেন, 'কোনো কনটেন্ট পীড়াদায়ক হতে পারে, তবে তা সবসময় বেআইনি নয়।' ২০১৯ সালে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর ৫১ জনকে হত্যার ঘটনা ফেসবুকে লাইভ করার পর থেকেই নিউজিল্যান্ড অনলাইনে সহিংস কনটেন্ট দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পদক্ষেপকে 'নিঃসন্দেহে সঠিক সিদ্ধান্ত' আখ্যা দিয়ে বলেন, অপরাধের 'গুরুতর পরিণতি' সম্পর্কে মানুষের জানা প্রয়োজন। মার্কিন আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি সম্প্রচার সমর্থন করেন কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস মন্তব্য না করে পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেবল ইরান ও তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে এ ধরনের ঘটনা দেখা গেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়ার প্রচার ব্যবস্থাপক কায়িনজোম ঢোংদুয়ে বলেন, 'ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সর্বসাধারণের জন্য সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তাব মানুষের মর্যাদার প্রতি চরম অবমাননাকর।' তিনি আরও বলেন, 'রাষ্ট্রের অনুমোদনে হওয়া একটি হত্যাকাণ্ডকে প্রকাশ্যে প্রদর্শনীতে রূপান্তর করা মৃত্যুদণ্ডের নিষ্ঠুরতাকে কেবল আরও বাড়িয়েই তোলে।'
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
