২.৩ বিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদের নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপ ‘ইজিক্যাটার’ কিনছে উবার
বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক করপোরেট খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্ম 'ইজিক্যাটার' ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নগদ অর্থে কিনে নেওয়ার চুক্তি করেছে উবার টেকনোলজিস।
বোস্টনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিহাদ রহমান। জেপি মরগান চেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২২ সালে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে তিনি ইজিক্যাটারে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী হন এবং একই বছরের মে মাসে পূর্ণাঙ্গ প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিযুক্ত হন।
গত ৬ অক্টোবর ঘোষিত এই অধিগ্রহণটি উবারের ডেলিভারি ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করার সর্বশেষ উদ্যোগ; যা বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দ্রুত বর্ধনশীল খাতে পরিণত হয়েছে।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইজিক্যাটার বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে তাদের সভা, অফিসিয়াল আয়োজন ও কর্মীদের খাবারের জন্য ক্যাটারারদের কাছ থেকে খাবার অর্ডার করার সুবিধা দেয়। উবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মাসে প্ল্যাটফর্মটি থেকে মোট ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খাবার বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
চীনের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য সরবরাহকারী গ্রুপ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত জুলাইয়ে জার্মানির 'ডেলিভারি হিরো'কে ১ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারে কিনে নেওয়ার সমঝোতার কয়েক মাস পরই এই নতুন চুক্তি করল উবার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইজিক্যাটারের ক্যাটারিং ব্যবসাকে উবার ইটস-এর রেস্তোরাঁ নেটওয়ার্ক এবং 'উবার ফর বিজনেস'-এর করপোরেট গ্রাহক ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে উবার ইটসের বিস্তার বেশি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহের বাজারে সিংহভাগ অংশীদারত্ব ধরে রেখেছে ডোরড্যাশ। ইজিক্যাটার অধিগ্রহণের মাধ্যমে উবার সেই ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উবার জানিয়েছে, ইজিক্যাটারে প্রতিটি অর্ডারের গড় মূল্য ৪০০ ডলারেরও বেশি, যা তাদের মুনাফার হার বাড়াতে সহায়ক হবে।
রোজেনব্ল্যাটের বিশ্লেষক স্কট ডেভিট বলেন, অধিগ্রহণের ফলে কোম্পানিগুলোর জন্য বেশি মূল্যের বড় অর্ডারভিত্তিক একটি নতুন ব্যবসা উবারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক গ্রাহকদের কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা উবারের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই বিভাগের মোট বুকিং ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ডেভিট বলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কর্মক্ষেত্রের এই করপোরেট গ্রাহকদের নিজস্ব ইকোসিস্টেমে নিয়ে আসা তাদের সদস্যপদ বৃদ্ধির চাকাকে আরও গতিশীল করবে।'
ভবিষ্যতে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি রাইড শেয়ারিংয়ের বাজার দখলে নিতে শুরু করলে উবার কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে—বিনিয়োগকারীদের সেই পর্যালোচনার মুখে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর ১৫ শতাংশ কমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডেলিভারি খাতই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে উবারের মোট আয়ের প্রায় ৩৭ শতাংশই এসেছে এই ডেলিভারি খাত থেকে।
চুক্তিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে এবং আগামী মাসগুলোতে এটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
