গুগল ম্যাপসের নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে প্রকাশ পেল গাজায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র
গুগল ম্যাপসের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে তিন বছরের গাজা যুদ্ধে উপত্যকাটির নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ এবং সেখানে বসবাসকারী ২৩ লাখ বাসিন্দার চলমান মানবিক সংকটের চরম রূপ ফুটে উঠেছে।
চলতি বছরের জুনে ধারণ করা এসব ছবিতে দেখা গেছে, প্রায় ১২ মাস আগে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সেখানকার ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং অবকাঠামোর আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, সমুদ্রের মাত্র কয়েক মিটার দূরে উপকূলরেখা বরাবর বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী তাঁবুর সারি। গাজার একসময়ের ব্যস্ত প্রধান বন্দরটি এখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং মাছ ধরার নৌকাশূন্য; এর চারপাশ এখন অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরে ঘেরা। এ ছাড়া গাজা সিটির ফাঁকা জায়গাগুলোতে তেরপল, কুঁড়েঘর ও তাঁবু গাদাগাদি করে গড়ে তোলা হয়েছে।
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনসহ বিভিন্ন শহরের ব্যাপক ধ্বংসলীলা এবং খান ইউনিসের ইস্তিকলাল মসজিদের মতো উপাসনালয়গুলোর ধ্বংসাবশেষও ছবিতে দৃশ্যমান।
ইসরায়েলের দফায় দফায় সামরিক অভিযানের শিকার হওয়া গাজা সিটির জাবালিয়া ও শুজাইয়ার মতো প্রধান এলাকাগুলো পুরোপুরি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ গাজাতেও চোখে পড়ছে কেবল ধ্বংসস্তূপ। মিসর সীমান্ত বরাবর একটি বিস্তৃত এলাকা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা শহরটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তেল আল-সুলতান এলাকাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ২১ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ বর্তমানে তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে বাস করছেন।
উপত্যকাটির প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা (আনুমানিক ২ লাখ ভবন) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেও গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে।
ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স গত মাসে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, 'গাজায় মোট ধ্বংসস্তূপের আনুমানিক পরিমাণ ৬ কোটি ১০ লাখ টন। এটি গত ১৮ বছরে বিশ্বজুড়ে হওয়া সমস্ত যুদ্ধে তৈরি ধ্বংসস্তূপের প্রায় ২০ গুণ।'
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও চাপা পড়ে থাকা মানুষের মরদেহের উপস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে বড়
মানবিক সংকটগুলোর একটি।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই বেসামরিক নাগরিক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল; যাতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।
