ক্যামেরা বন্ধ, পরিদর্শনে বাধা: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা পরিষদের সহায়তা চাইলো আইএইএ
জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে নির্ধারিত নিরাপত্তা-ব্যবস্থা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ এনে দেশটিকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বুধবার কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের ওপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নজরদারি চালানোর প্রচেষ্টার এটি সর্বশেষ অধ্যায়। এই সময়ে দেশটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা থেকে ধীরে ধীরে পরিদর্শন কার্যক্রম নস্যাৎ করার পর্যায়ে নেমে গেছে। একাধিক সাবেক কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং এক দশকেরও বেশি সময়ের জাতিসংঘের নথিপত্র পর্যালোচনা করে সিএনএন এসব তথ্য পেয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে ছিল নজরদারি ক্যামেরা অকার্যকর করে দেওয়া এবং পরিদর্শকদের ওপর 'অতিরিক্ত হস্তক্ষেপমূলক শারীরিক তল্লাশি' চালানো।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরানের করা পরমাণু চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর পরমাণু পরিদর্শন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর তদারকির দায়িত্বে ছিল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। কয়েক বছর ধরে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি সংস্থাটির পরিদর্শকদের সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছিল।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরের বছরগুলোতে ইরান ধীরে ধীরে এবং পরিকল্পিতভাবে তার পরমাণু নিরাপত্তাব্যবস্থার বিভিন্ন শর্ত অমান্য করতে শুরু করে বলে সে সময়কার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সংস্থাটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, ইরান পরমাণু উপাদান-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনার তথ্য প্রকাশ করেনি।
সিএনএনের সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্য পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক সাবেক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, 'ইরানিরা আসলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছিল এবং ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রবেশাধিকার কঠিন করে তুলেছিল। তারা এমন তথ্য দিত, যা হাস্যকর এবং বিশ্বাসযোগ্যও ছিল না।'
একজন সাবেক আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কর্মকর্তা এবং এক সাবেক মার্কিন কূটনীতিক সিএনএনকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কখনো কখনো বিষয়গুলোকে গুরুত্বের তুলনায় কম করে দেখিয়েছে। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে কম সংঘাতপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার প্রচেষ্টাও ছিল।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে, কোনো দেশ পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার না মানলে শুধু নজরদারি ও যাচাই-ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কতটা প্রকট হতে পারে। এ কারণে শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনকি যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সমাধান হলেও এবং এর অংশ হিসেবে নতুন একটি পরমাণু চুক্তি হলেও তা ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরি থেকে থামানোর জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের পরমাণু নীতিবিষয়ক বিভাগের প্রধান ও পদার্থবিদ জেমস অ্যাক্টন বলেন, 'প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক—দুই কারণেই আমার মনে হয়, ইরান এখন যদি পরমাণু বোমা তৈরি করতে চায়, তাহলে তারা তা তৈরি করবেই।'
অ্যাক্টন সিএনএনকে বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে ইরানের পরমাণু বোমা অর্জনের সম্ভাবনা তিনি '৫০-৫০' বলে মনে করেন।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের ৩৫ সদস্যের মধ্যে ২৩ জন বুধবার তেহরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে জানানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এই পদক্ষেপের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান পরমাণু নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানছে না—এমন ঘোষণা দিয়ে যে প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল, বুধবারের পদক্ষেপটি তারই ধারাবাহিকতা।
ওই প্রস্তাবটি বর্তমান ইরান যুদ্ধ শুরুর সাত মাস আগে এবং 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর আওতায় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক দিন আগে পাস হয়েছিল।
সর্বশেষ ২০০৬ সালের শুরুর দিকে ইরানকে নিরাপত্তা পরিষদে জানানো হয়েছিল। এরপর জাতিসংঘের এই সংস্থা একের পর এক পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও ছিল। বুধবারের এই প্রতিবেদনের পর নিরাপত্তা পরিষদ একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ রাশিয়া ও চীন নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং তারা চাইলে প্রস্তাবিত যেকোনো পদক্ষেপে এককভাবে ভেটো দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের কূটনৈতিক মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রস্তাবটিকে 'রাজনৈতিক' এবং 'ঐকমত্য ছাড়াই গৃহীত' বলে নিন্দা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ও যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা
২০১৫ সালের ওই চুক্তিটি 'যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা' নামে পরিচিত। ২০ মাসের তীব্র আলোচনার পর চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমা আরোপ করা হয়—বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে। এসব সীমা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করত।
চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ওপর এক দশক বা তারও বেশি সময়ের জন্য কঠোর সীমা নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে ইরান তার অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের বেশির ভাগই ধ্বংসের জন্য রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেয়।
চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি, প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, পরমাণু অস্ত্রের নকশা তৈরি এবং এ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকাণ্ডের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
চুক্তিটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যাপক পরমাণু নজরদারি ব্যবস্থা চালুর অনুমতিও দেয়। এর মধ্যে ছিল সিল, ক্যামেরা, বিভিন্ন ধরনের সংবেদক, প্রতিদিন সরেজমিনে পরিদর্শন এবং গোপন কোনো পরমাণু স্থাপনা ব্যবহারের সন্দেহ হলে তা তদন্ত করার ব্যবস্থা।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা প্রত্যয়ন করে যে ইরান এর শর্তগুলো মেনে চলছে।
২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিলেও ইরান চুক্তিতে নির্ধারিত পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত শর্ত এবং সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজ ও ঘোষিত ইউরেনিয়ামের মজুতের ওপর আরোপিত নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে চলেছিল।
তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রায় প্রতি তিন মাস অন্তর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ইরানের চুক্তি মেনে চলার প্রবণতা ভেঙে পড়তে শুরু করে।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে পরিদর্শকেরা জানান, ইরান এত পরিমাণে কম-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে যে তা পরমাণু উপাদানের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে।
ওই বছরের শরতে তেহরান এমন সব স্থাপনায় উন্নত সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করে আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে, যেখানে চুক্তি অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল।
এরপর ২০২০ সালে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের এমন দুটি স্থাপনায় প্রবেশ করতে বাধা দেয়, যেগুলো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে পরমাণু-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে ইরানের সংসদ একটি আইন পাস করার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রবেশাধিকার আরও সীমিত হয়ে পড়ে। ওই আইনের মাধ্যমে সংস্থাটির সঙ্গে বাড়তি নজরদারি ও যাচাইব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা কমিয়ে দেওয়া হয়।
ইসরায়েলের হাতে ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী নিহত হওয়ার পর ওই আইনটি পাস করা হয়েছিল। একই আইনে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও ছিল, যদি যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে না দেয়।
৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা। কারণ এই পর্যায় থেকে ইউরেনিয়ামকে আরও দ্রুত অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানে পরিণত করা সম্ভব। অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশ।
প্রথমদিকে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারি সরঞ্জামগুলো স্থাপিত অবস্থায় রাখার এবং সেগুলো থেকে পাওয়া তথ্য স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
কিন্তু ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। ওই বছরের গ্রীষ্মে ইরান কারাজে অবস্থিত একটি সেন্ট্রিফিউজ কর্মশালায় নজরদারি ক্যামেরাগুলো অকার্যকর করে দেয় এবং একটি ক্যামেরা ধ্বংস করে।
এর প্রায় এক বছর পর, ২০২২ সালের জুনে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে তার সব পরমাণু চুক্তি-সংশ্লিষ্ট নজরদারি সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়।
সংস্থাটি জানায়, ২০২১ সালে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের 'অতিরিক্ত হস্তক্ষেপমূলক শারীরিক তল্লাশির' মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়েছিল।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ফোরদো পরমাণু স্থাপনায় একগুচ্ছ অনঘোষিত সেন্ট্রিফিউজের সন্ধান পায়। এসব সেন্ট্রিফিউজে ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হচ্ছিল। এই মাত্রা অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার, অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশের, কাছাকাছি।
সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা সাবেক মার্কিন কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন অভিজ্ঞ রুশ পরিদর্শক সেন্ট্রিফিউজের পাইপলাইনে সামান্য একটি পরিবর্তন শনাক্ত করার পর এই বিষয়টি ধরা পড়ে।
কয়েক মাস পর ইরান ওই পরিদর্শক এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বিশেষজ্ঞকে দেশ থেকে বের করে দেয়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পরিদর্শকদের বহিষ্কারের ঘটনাকে সংস্থাটির ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নজরদারির সক্ষমতার ওপর 'খুবই গুরুতর আঘাত' হিসেবে বর্ণনা করেন।
পরবর্তী বছরগুলোতে ইরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলতে থাকে।
নজরদারি কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখা এবং অঘোষিত পরমাণু স্থাপনাগুলোর বিষয়ে ইরানের স্বচ্ছতার অভাবের কারণে ২০২৫ সালের জুনে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা একটি প্রস্তাব পাস করে। এতে ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধে করা অঙ্গীকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হয়।
ওই প্রস্তাব পাস হওয়ার পরদিন ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।
ইরানের প্রতিনিধিরা অতীতেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বুধবারের প্রস্তাবেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই প্রস্তাবটি ২০২৫ সালের জুনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
ভোটের আগে দেওয়া বিবৃতিতে ইরানিরা দাবি করেন, সংস্থাটি কখনো 'পরমাণু উপাদান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি যাচাই করেনি'।
তেহরানের কূটনীতিকেরা দাবি করেন, নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তোলার উদ্যোগ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো 'পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে কুমিরের কান্না' করছে। একই সঙ্গে তারা 'শান্তিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় থাকা পরমাণু স্থাপনাগুলোর ওপর নজিরবিহীন ব্যাপক হামলা, নৃশংস যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের' ন্যূনতম মৌখিক নিন্দা জানাতেও 'ভণ্ডের মতো' এড়িয়ে যাচ্ছে।
