ইসরায়েলকে সহযোগিতায় ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বিল পাস মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে
বুধবার প্রতিনিধি পরিষদ ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক ব্যয় বিল পাস করেছে। বিপুল সামরিক ব্যয় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে একটি প্রস্তাবও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা উপেক্ষা করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক শক্তির ব্যাপক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে কংগ্রেস ব্যর্থ হচ্ছে।
এই ফলাফল এমন একটি বড় দ্বিদলীয় জোটের ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত দেয়, যারা সাধারণত প্রতি বছর জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন পাসে একসঙ্গে কাজ করে। কংগ্রেসে এটি দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য ঐকমত্যের ক্ষেত্রের একটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ২১৬-২১২ ভোটে বিলটি পাস হয়। ভোটাভুটি মূলত দলীয় অবস্থান অনুযায়ী হলেও ছয়জন ডেমোক্র্যাট বিলটির পক্ষে ভোট দেন এবং সাতজন রিপাবলিকান এর বিপক্ষে অবস্থান নেন।
হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কড়া সমালোচক রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি ভোটের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'আজ এনডিএএর চূড়ান্ত ভোটে এমন একটি বিল পাস হয়েছে, যা দুঃখজনকভাবে আমাদের সামরিক প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আশা করি এই সংস্করণটি সিনেটে পাস হবে না, কারণ ২১৯ নম্বর ধারা আমাদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।'
২০২৭ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন একটি প্রস্তাবের প্রতিফলন, যার মাধ্যমে বিশ্বের মধ্যে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক বাজেট আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে গত বছরের ৯০০ বিলিয়ন ডলার থেকে সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যে ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরু করেছে, সেই ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় যুদ্ধ পরিচালনার জন্য এই ব্যয় বৃদ্ধি প্রয়োজন।
২০২৭ সালের এনডিএএ-তে এমন একটি ধারাও রয়েছে, যা ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করবে। অথচ ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে, ফলে এই ধারাটি নিয়েও ব্যাপক পর্যালোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
এখন বিলটির ভবিষ্যৎ সিনেটে অনিশ্চিত। কারণ, এমন সময়ে এর বিপুল ব্যয় নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আপত্তি জানাতে পারেন, যখন হোয়াইট হাউস সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে জনগণের প্রবেশাধিকার কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। গত সপ্তাহে সিনেটে ভোটাভুটিতে ডেমোক্র্যাটরা এনডিএএ নিয়ে বিতর্ক শুরু করার উদ্যোগ আটকে দেন। সে সময় সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বিলটিকে ইরানের বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধের জন্য একটি 'অনুমতিপত্র' বলে মন্তব্য করেন।
সাধারণত জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) এমন একটি আইন, যা পাস হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে বিবেচিত হয়। তবে চলতি বছরের বিলে ইউক্রেনের জন্য সহায়তার মতো আরও কয়েকটি বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্যাকেজটিতে সেভ আমেরিকা আইনও রাখা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্টের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই আইনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, যার উদ্দেশ্য ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ব্যাপক ভোট জালিয়াতি প্রতিরোধ করা, যদিও সমালোচকদের মতে তিনি এ ধরনের ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
