শুধু থালাপতি বিজয় নন, নির্বাচনে জিতেছেন তার গাড়িচালকের ছেলেও
বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিরুগামবাক্কাম আসনে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তামিলাগা ভেট্রি কালাগাম-প্রধান (টিভিকে) অভিনেতা বিজয়ের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের ছেলে আর শবরীনাথন। সামান্য ব্যবধানে নয়, ক্ষমতাসীন ডিএমকে-র বিদায়ী বিধায়ক (এমএলএ) এএমভি প্রভাকর রাজাকে ২৭ হাজার ৮৬ ভোটে হারিয়েছেন তিনি।
শবরীনাথনের বাবা রাজেন্দ্রন দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের মাঝে 'থালাপতি' নামে পরিচিত বিজয়ের ছায়াসঙ্গী। রাজনীতিতে কার্যত আনকোরা শবরীনাথন এই জয়ের পরই তামিল রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। এই জয়কে অনেকটা প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে। জয়ের নেপথ্যে শবরীনাথনের জনসংযোগের পাশাপাশি কাজ করেছে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া 'বিজয় হাওয়া'।
জয়ের পরে শবরীনাথন উচ্ছ্বাস গোপন করেননি। তার স্পষ্ট দাবি, এই ফলাফল 'ডিএমকের পতনের ইঙ্গিত'।
তামিল রাজনীতিতে টিভিকের এই উত্থান অবশ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১০৮টি আসনে জয়ী হয়েছে তারা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। ম্যাজিক ফিগার থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও এই ফলাফল তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইতিমধ্যে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে, দুই প্রধান জোটের ছোট দলগুলোও বিজয়কে সমর্থন করতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী দিনে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ বেশ কৌতূহলোদ্দীপক হতে পারে।
রাজনীতির ময়দানে বিজয়ের নিজের অভিষেকও হয়েছে নজরকাড়া। পেরমবুর আসন থেকে ৫৩ হাজারেরও বেশি ভোটের বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) আসনেও তার দলের ফলাফল বেশ ভাল।
এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ টিভিকে নেতৃত্ব নিজেদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাখঢাক করছেন না। দলের প্রার্থী সিনোরা অশোক ইতিমধ্যেই বলেছেন, বিজয়ই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন।
এই নির্বাচনে বেশ কয়েকটি বড়সড় চমকও রয়েছে। নিজের খাস এলাকা কোলাথুরে টিভিকে প্রার্থী ভিএস বাবুর কাছে প্রায় ৯ হাজার ভোটে হেরে গিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। ডিএমকের জন্য এটি বড় ধাক্কা। ডিএমকের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক কংগ্রেসও হাতেগোনা কয়েকটি আসনে জিতেছে।
তামিল রাজনীতিতে দীর্ঘ দিন ধরেই একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রেখেছে ডিএমকে ও এডিএমকে। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিক থেকে চলে আসা সেই দ্বিমুখী রাজনীতিতে এই প্রথম বড়সড় চিড় ধরল।
বিজয়ের এই রাজনৈতিক উত্থান এমজি রামচন্দ্রন, জে জয়ললিতা কিংবা এনটি রামা রাওয়ের মতো কিংবদন্তি নেতাদের স্মৃতি উসকে দিচ্ছে, যারা রুপালি পর্দার বিপুল জনপ্রিয়তাকে সফলভাবে রাজনৈতিক মূলধনে পরিণত করেছিলেন।
রুপালি পর্দার তারকারা নিজেদের জনপ্রিয়তাকে সবসময় ভোটবাক্সে রূপান্তরিত করতে পারেন না, এমন একটি প্রচলিত ধারণা রাজনীতিতে রয়েছে। বিজয় যেন সেই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করলেন। তার প্রতি বিপুল জনসমর্থন প্রমাণ করছে, ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় আবেগজনিত সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
আর শবরীনাথনের মতো আনকোরা প্রার্থীর জয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এই সাফল্য কেবল তারকাসুলভ জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তা আমজনতার মনোভাব পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত।
