বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্ত শুরু; আরোপ হতে পারে নতুন শুল্ক
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ার পর, নিজেদের বড় বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে নতুন তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, 'সেকশন ৩০১' অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা সংক্রান্ত এই তদন্তের আওতায় চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মেক্সিকোর ওপর আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
যদি কোনো দেশ অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চায় জড়িত বলে প্রমাণিত হয়, তবে এই তদন্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বসানোর সুযোগ পাবে। গ্রিয়ার আশা প্রকাশ করেছেন, ফেব্রুয়ারির শেষে ট্রাম্পের আরোপ করা নতুন সাময়িক শুল্কের মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত সম্পন্ন হবে।
তদন্তের ঘোষণা দিয়ে গ্রিয়ার বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র আর অন্য দেশগুলোর জন্য নিজের শিল্প ভিত্তি বিসর্জন দেবে না, যারা তাদের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা ও উৎপাদনের সমস্যাগুলো আমাদের কাছে রপ্তানি করছে।'
তদন্তের তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড এবং নরওয়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডাকে এই তদন্তের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে 'অবৈধ' বলে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পরপরই প্রেসিডেন্ট ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেন। তিনি আদালতের রায়কে 'ভয়াবহ' বলে অভিহিত করেন এবং তার বাণিজ্য নীতি প্রত্যাখ্যানকারী বিচারকদের 'বোকা' বলে কটাক্ষ করেন।
পরের দিন তিনি ১৫ শতাংশ শুল্কের কথা বললেও যখন এটি কার্যকর হয়, তখন হার ছিল মূলত ১০ শতাংশ। তবে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন বলছেন যে শুল্কের এই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে।
এই তদন্ত বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে শুল্কের হুমকি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি জোরালো যুক্তি তৈরির পথ করে দিচ্ছে। এমন সময়ে এই তদন্ত শুরু হলো যখন চলতি সপ্তাহের শেষেই প্যারিসে মার্কিন ও চীনা শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এই আলোচনা মূলত মার্চের শেষে বেইজিংয়ে ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের একটি পটভূমি তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
