ইরান যুদ্ধে জ্বালানি তেল বাজারে অস্থিরতা, উৎপাদন বাড়ানোর আকস্মিক নিতে পারে ওপেক প্লাস
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, আজ রোববারের বৈঠকে তেলের উৎপাদন (উত্তোলন) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিতে যাচ্ছে ওপেক প্লাস জোট।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এপ্রিল মাসে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল (বিপিডি) পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে—যা আগে প্রত্যাশিত ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল বৃদ্ধির তিনগুণ। এমনকি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়লে এই বৃদ্ধি দৈনিক ৫ লাখ ৪৮ হাজার ব্যারেল পর্যন্তও হতে পারে বলে একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে।
এটি হলে জোটের অবস্থানে স্পষ্ট পরিবর্তন আসবে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে মৌসুমি চাহিদা হ্রাস ও আগের অতিরিক্ত সরবরাহ আশঙ্কায় উৎপাদন বাড়ানোটা স্থগিত রেখেছিল ওপেক প্লাস। কিন্তু এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তার জবাবে তেহরানের পাল্টা আঘাতে—আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জোটটি মূল্য নিয়ন্ত্রণের কৌশল থেকে সরে এসে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার দিকে ঝুঁকছে।
বাণিজ্যিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে রপ্তানি বাড়াতে শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এপ্রিল থেকে আমিরাতের প্রধান মুরবান ক্রুডের রপ্তানিও বাড়তে যাচ্ছে। ইরাক, কুয়েত ও আমিরাতের সম্মিলিত রপ্তানিও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে।
এতকিছুর পরেও বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে ঝুঁকির মাত্রাও কম নয়। ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে এবং এর মধ্যে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি রপ্তানি করে, যার বড় অংশই যায় চীনে। ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে—যেখানে দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
একই সময়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ইসরায়েল সাময়িকভাবে সমুদ্র উপকূলীয় গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ করেছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে নরওয়েজীয় কোম্পানি ডিএনও উৎপাদন স্থগিত রেখেছে। ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি উৎপাদন কত দ্রুত ব্যাহত হতে পারে, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একাধিক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়ে ওপেক প্লাস যেন দীর্ঘস্থায়ী মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে চাইছে, যাতে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা আরও না বাড়ে। তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো উচ্চমাত্রায় রয়ে গেছে।
এ অবস্থায় রোববারের বৈঠক প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজস্ব লক্ষ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আশ্বস্ত রাখার প্রয়োজন—এই দুইয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার কঠিন পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে ওপেক প্লাস জোট।
