রাশিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি নিষিদ্ধ, বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত মেসেঞ্জার ব্যবহারের পরামর্শ
রাশিয়ায় মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আইন মেনে না চলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ক্রেমলিন। একই সঙ্গে রাশিয়ার নাগরিকদের রাষ্ট্র-সমর্থিত 'জাতীয় মেসেঞ্জার' ম্যাক্স ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, 'রাশিয়ার আইন মেনে চলতে মেটার অনিচ্ছার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকর করা হয়েছে।' তিনি বলেন, ম্যাক্স একটি সহজলভ্য এবং বিকাশমান জাতীয় মেসেঞ্জার, যা নাগরিকদের জন্য বিকল্প হিসেবে বাজারে রয়েছে।
তবে সমালোচকদের দাবি, ম্যাক্স মূলত নজরদারির একটি হাতিয়ার, যদিও কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ গত ছয় মাসের চাপের চূড়ান্ত ফল। যুদ্ধের সময়ে রাশিয়া নিজস্ব 'সার্বভৌম' যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি এবং নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে, যেখানে বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে হয় স্থানীয় আইন মানতে হবে, নতুবা চলে যেতে হবে।
এর আগেই রাশিয়ায় মেটাকে 'উগ্রবাদী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
হোয়াটসঅ্যাপ এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, 'আজ রাশিয়া সরকার জনগণকে রাষ্ট্রায়ত্ত নজরদারি অ্যাপ ব্যবহারে বাধ্য করতে হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি ব্লক করার চেষ্টা করেছে। ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগত ও নিরাপদ যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই চেষ্টা একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ।'
হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত কিছু ডোমেইন রাশিয়ার জাতীয় ডোমেইন রেজিস্টার থেকে উধাও হয়ে গেছে। এর ফলে রাশিয়ার ভেতরের ডিভাইসগুলো অ্যাপটির আইপি অ্যাড্রেস পাচ্ছে না। এখন শুধু ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করেই অ্যাপটি চালানো সম্ভব হচ্ছে। রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসকোমনাদজোর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
রাশিয়া এর আগেও স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্লক বা সীমিত করেছে। এর বিপরীতে তারা ম্যাক্স ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। সরকার বলছে, ম্যাক্সে বিভিন্ন সরকারি সেবা যুক্ত করা হয়েছে, যা নাগরিকদের জীবনযাত্রা সহজ করবে।
গত আগস্টে রোসকোমনাদজোর হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য মেসেঞ্জারে ফোন কল সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, এসব প্ল্যাটফর্ম জালিয়াতি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তথ্য শেয়ার করছে না। ডিসেম্বরে সংস্থাটি জানিয়েছিল, আইন লঙ্ঘন এবং 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জালিয়াতিতে' ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগে তারা অ্যাপটির ওপর ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ আরোপ করবে।
নিষিদ্ধ কনটেন্ট না সরানোর জন্য রাশিয়ার আদালত হোয়াটসঅ্যাপকে বারবার জরিমানা করেছে এবং দেশটিতে একটি স্থানীয় অফিস খোলার দাবি জানিয়ে আসছে, যা কোম্পানিটির নেই। ডিসেম্বর থেকেই অনেক রাশিয়ান ভিপিএন ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারছিলেন না এবং অনেকে টেলিগ্রামের মতো বিকল্প অ্যাপে ঝুঁকছিলেন। তবে টেলিগ্রামও কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে রয়েছে।
