দিল্লিতে লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ, নিহত ৯; তদন্তে একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে পার্ক করা একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিবিসি জানিয়েছে, তদন্তকারীরা বিস্ফোরণে জড়িত গাড়িটির গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। ভারতের বেশ কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে ওই গাড়িটি লাল কেল্লার আশেপাশে দেখা গেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, লাল রঙের হুন্দাই আই২০ গাড়িটি কাছের একটি কার পার্কে স্থির অবস্থায় ছিল, এরপর এটি মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি সংযোগস্থলের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়, যেখানে এটি বিস্ফোরিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিস্ফোরণের শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের ভবন পর্যন্ত শোনা যায়। লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে ঘটে যাওয়া এ বিস্ফোরণে একাধিক গাড়িতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর তিন থেকে চারটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে সাতটি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পুলিশ দ্রুত এলাকা ঘিরে ফেলে এবং পুরো শহরে উচ্চ সতর্কতা জারি করে।
আজ সকালে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা 'এএনআই' প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, তদন্তকারীরা এখনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। গত রাতের এই মারাত্মক বিস্ফোরণের তদন্তে একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা যুক্ত রয়েছে।
দিল্লির লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণের চলমান তদন্তের বিষয়ে আলোচনার জন্য আজ সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি গত রাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিশ্চিত করেছেন। তিনি গত রাতে বিস্ফোরণের সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং বলেন, তিনি এই বিস্ফোরণের ঘটনায় 'অত্যন্ত মর্মাহত'।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, 'এরকম শব্দ আমি জীবনে শুনিনি। বিস্ফোরণের শক্তিতে আমি তিনবার পড়ে যাই। মনে হচ্ছিল, আমরা সবাই মরে যাব।'
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দেহাবশেষ দেখেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা কাছে গিয়ে দেখি, দেহের টুকরো রাস্তায় ছড়িয়ে আছে। কেউই বুঝে উঠতে পারছিল না কী ঘটেছে।'
বিস্ফোরণে আহত এক অটোরিকশাচালক বলেন, 'আমার সামনে থাকা গাড়িটি দুই ফুট দূরে ছিল। জানি না তাতে বোমা ছিল কি না, হঠাৎ সেটি বিস্ফোরিত হয়। গাড়িটি ছিল সুইফট ডিজায়ার।'
এদিকে একই দিনে জম্মু ও কাশ্মীরে জইশ-ই-মোহাম্মদ ও আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি সন্ত্রাসী চক্রকে ধরতে অভিযান চালায় স্থানীয় পুলিশ। কাশ্মীর, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশজুড়ে পরিচালিত এ অভিযানে আটজনকে (তিনজন চিকিৎসকসহ) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হরিয়ানার ফরিদাবাদের ধাউজ গ্রামে এক চিকিৎসকের ভাড়া নেওয়া বাড়ি থেকে ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
