প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ। তার আগমন ঘিরে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (সিএমপি) অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। তবে তার আগমন নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ঘিরে নির্ধারিত দুটি ভেন্যুতেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন ঘিরে প্রটোকল অনুযায়ী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।'
বিমানবন্দর থেকে জেএম সেন হল পর্যন্ত নিরাপত্তার স্তর সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে না চাইলেও সিএমপি কমিশনার বলেন, 'নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও রাখা হয়েছে।'
নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নগরজুড়ে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, 'পুরো চট্টগ্রামে এখন সাজ সাজ রব। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে নগরজুড়ে। চট্টগ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত।'
মেয়র বলেন, 'জেএম সেন হলের ভেতরে জায়গা সীমিত থাকায় সেখানে কয়েকশো' মানুষ উপস্থিত থাকতে পারবেন। বাইরে হাজারো মানুষের সমাগম হতে পারে। তাদের জন্য নগরের বিভিন্ন স্থানে এলইডি স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে এবং তার বার্তা জানতে পারেন।'
জেএম সেন হলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, 'ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে এই স্থানের সম্পর্ক রয়েছে। সূর্য সেন, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ও নেলী সেনগুপ্তের স্মৃতিবিজড়িত এ এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন নগরবাসীর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।'
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে তারা প্রস্তুত। স্বাধীন বাংলাদেশে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের চট্টগ্রামের দুর্গাপূজামণ্ডপে আগমন তাদের জন্য আনন্দের ও গর্বের।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমে স্বাগত জানানো হবে। এরপর তিনি আসন গ্রহণ করবেন। পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও পাঠ শেষে বক্তব্য দেবেন। আমি কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বাগত বক্তব্য রাখব।'
প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি বলেন, 'আমরা চাই, দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন সম্প্রীতির পরিবেশে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারেন। এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।'
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট ও বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপে চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা এবং দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
ঢাকার বাইরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম জানান, 'মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা নগরীর রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত হবে।'
তিনি জানান, সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতারা ও মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কী বার্তা দেবেন সে বিষয়ে আগাম কিছু বলতে চান না জানিয়ে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পরই বিষয়টি জানা যাবে।'
পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার নাথ জানান, এ বছর সুশৃঙ্খলভাবে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপে আসছেন, এটি তাঁদের জন্য বড় প্রাপ্তি। তাকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেক পূজার্থী।
প্রসঙ্গত, এবার চট্টগ্রাম নগরে ২৯৪টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১ হাজার ৬৫৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। উৎসবের আমেজ বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
