বিশেষ চাবি দিয়ে ১০-২০ সেকেন্ডেই মোটরসাইকেলের লক খুলে চুরি, গ্রেপ্তার ৬
বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে মাত্র ১০ থেকে ২০ সেকেন্ডেই মোটরসাইকেলের লক খুলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরির অভিযোগে একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল, লক খোলার দুটি বিশেষ চাবি এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেল (৩০), আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি (৩০), ফয়সাল (২৫), সৌরভ (২২), জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু (২৯) ও মোজাম্মেল হক মাসুম (২২)।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা অটোরিকশায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্থানে পার্ক করে রাখা মোটরসাইকেল শনাক্ত করতেন। এরপর বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে লক খুলে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেতেন।
একইভাবে গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে থেকে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরি হয়। মোটরসাইকেলটি লক করে মালিক আসরের নামাজ পড়তে গেলে চক্রের সদস্যরা বিশেষ চাবি দিয়ে লক খুলে সেটি নিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্ত শুরু করে ডিবি।
তদন্তের একপর্যায়ে সবুজবাগের নন্দীপাড়া ও মাদারটেক এলাকা থেকে রাসেলকে দুটি বিশেষ চাবি ও একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেটের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেলসহ রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার লাকসাম থেকে চারটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ফয়সাল ও সৌরভকে এবং নোয়াখালীর চাটখিল থেকে তিনটি মোটরসাইকেলসহ পাপ্পু ও মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও রাব্বি জানিয়েছেন, তারা একই কৌশলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করতেন।
অটোরিকশায় ঘুরে ঘুরে মোটরসাইকেল চুরির পর সেগুলো কুমিল্লার লাকসামে ফয়সাল ও সৌরভ এবং নোয়াখালীর চাটখিলে পাপ্পু ও মাসুমের কাছে সরবরাহ করতেন তারা।
পুলিশ জানায়, মডেল ও অবস্থা অনুযায়ী প্রতিটি চোরাই মোটরসাইকেল ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করা হতো।
পুলিশ আরও জানায়, রাসেলের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির ১৫টি মামলা এবং একটি জিআর সাজা পরোয়ানা রয়েছে। অন্যদিকে, রাব্বির বিরুদ্ধে চুরির সাতটি মামলা ও দুটি জিআর পরোয়ানা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
