পদ্মায় জলদস্যুদের আধিপত্যের লড়াই, দুই স্পিডবোটে আগুন দিয়ে ডুবিয়ে দিল প্রতিপক্ষ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জলদস্যুদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের দুটি স্পিডবোটে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে অন্য একটি স্পিডবোট দিয়ে টেনে নিয়ে বোট দুটি মাঝনদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি, লিসেনদিয়া ও মাধবপুর এলাকার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় চারটি স্পিডবোট নিয়ে কয়েকজনের চলাচল ছিল। একপর্যায়ে নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে এক পক্ষ অন্য পক্ষের দুটি স্পিডবোটকে ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে বোট দুটির আরোহীরা নদীর তীরে সেগুলো রেখে পালিয়ে যান।
পরে ধাওয়াকারী পক্ষের লোকজন বোট দুটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আগুনে বোট দুটি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর আরেকটি স্পিডবোট দিয়ে সেগুলো টেনে নদীর মাঝখানে নিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সময় পদ্মা নদীর তীরবর্তী পানবরজে কাজ করছিলেন কয়েকজন কৃষক। তারা হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণ পর নদীর দিকে আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখতে পান তারা। পরে আগুন নেভানোর পরও বোট দুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অন্য একটি স্পিডবোট এসে সেগুলো মাঝনদীতে নিয়ে ডুবিয়ে দেয়।
ঘটনার পর নদীর তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সংঘর্ষে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্পিডবোট দুটির মালিকানা, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের বিস্তারিত তথ্যও জানা যায়নি।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, 'ঘটনাটি আমরা শুনেছি। বিষয়টি নৌ-পুলিশের অধিক্ষেত্রভুক্ত হওয়ায় তারাই প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেবে।'
তবে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
