আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ভেঙে ফেলার ‘বেপরোয়া প্রচেষ্টা’: জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ভেঙে ফেলার 'বেপরোয়া প্রচেষ্টা' হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা আদালতটির স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, 'সবচেয়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ আন্তর্জাতিক জবাবদিহি ও আইনের শাসনের ভিত্তির ওপর আঘাত।'
আইসিসির বর্তমান ও সাবেক ১০ জনের বেশি বিচারক ও কর্মকর্তার পাশাপাশি জাতিসংঘের একজন বিশেষ প্রতিবেদকের ওপর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। এর ধারাবাহিকতায় এবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞার সরাসরি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নৃশংস অপরাধের ভুক্তভোগীরা। ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য তারা আইসিসির ওপর নির্ভর করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি শিকার হবেন ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় থাকা নৃশংসতার ভুক্তভোগীরা। তারা আরও উল্লেখ করেন, 'এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য আইসিসিকে নতজানু করা; যাতে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে না হয়।'
ইউরোপীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য না হয়, সেজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অবিলম্বে তাদের 'ব্লকিং স্ট্যাটিউট' (নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধ আইন) সক্রিয় করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই সঙ্গে আইসিসির কর্মীদের সুরক্ষা এবং আদালতের কার্যক্রম সচল রাখতে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তারা সতর্ক করে বলেন, 'নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ভবিষ্যতের হামলাগুলোকে আরও উসকে দেবে। আদালতটিকে রক্ষা করতে এখনই রাষ্ট্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।'
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা 'অগ্রহণযোগ্য': জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক
পৃথক এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যা দিয়ে আদালত ও এর সহযোগীদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
তুর্ক বলেন, 'সবচেয়ে জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রতিদিন দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের কাজ করে যাওয়া আইসিসি ও এর কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় আসা এই নিষেধাজ্ঞা অগ্রহণযোগ্য।'
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপ আদালতের সহযোগীদের মাঝে যেন কোনো ভীতির সঞ্চার না করে। রোম সনদের ১২৫টি সদস্য দেশকে আদালতের কার্যক্রম রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'নিজেদের প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার বিশেষ দায়বদ্ধতা তাদের রয়েছে।'
আইসিসি ও এর কর্মীদের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তুর্ক বলেন, 'যারা গুরুতর অপরাধের তথ্য সংগ্রহ, তদন্ত ও বিচার করছেন তাদের শাস্তি না দিয়ে আমাদের বরং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।'
