বকেয়া বেতন নিয়ে সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতি: ইটিভির ৬ কর্মকর্তাকে শোকজ
আটকে থাকা ২৩ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগে একুশে টেলিভিশন লিমিটেডের (ইটিভি) চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) শীর্ষ ছয় কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম জেবুননেছা এ আদেশ দেন। চাকরিচ্যুতির আদেশের কার্যকারিতা কেন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে স্থগিত করা হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী টিবিএসকে বলেন, 'সাংবাদিককে চাকরি থেকে বরখাস্তের ঘটনায় একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান, এমডিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত শোকজ নোটিশ দিয়েছেন। চাকরিচ্যুতির আদেশের ওপর কেন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না, তা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, শোকজের অনুলিপি ইটিভি, চেয়ারম্যান ও সিইও আবদুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডি তাসনুভা মাহবুব সালাম, নির্বাহী সম্পাদক হারুন অর রশিদ, প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের ম্যানেজার মো. আল-আমিন, ন্যাশনাল ডেস্কের ইনচার্জ সমর ইসলাম এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি ও আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিক মো. হাসান ফেরদৌস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইটিভিতে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২৩ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখে।
বকেয়া বেতন আদায়ে হাসান ফেরদৌস কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে (ডিআইএফই) অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে বকেয়া মজুরি আদায়ের জন্য চট্টগ্রামের শ্রম আদালতেও পৃথক মামলা করেন তিনি।
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, পাওনা বেতন আদায়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর ইটিভি কর্তৃপক্ষ ২৯ জুন ২০২৬ তারিখ হাসান ফেরদৌসের বিরুদ্ধে একটি টার্মিনেশন আদেশ জারি করে। বাদীপক্ষের দাবি, আদেশটি পরে ডাকযোগে তার কাছে পাঠানো হয়।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, চলমান আইনি কার্যক্রমের মধ্যে আদালতের অনুমতি ছাড়া এবং নোটিশ পে প্রদান না করে ওই টার্মিনেশন আদেশ জারি করা হয়েছে। এ কারণে আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত এবং মূল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন করেন হাসান ফেরদৌস।
