বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সম্মাননা পেলেন ১০২ গুণী শিক্ষক
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে সরকার।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র ও দুই লাখ টাকা করে তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের সম্মাননা দেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এছাড়া বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য ও অতিথিদের আলোচনা শেষে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শেষ হয়।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী- প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এ বছর মোট ১০২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্মাননা পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ (মরণোত্তর), ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলামসহ (মরণোত্তর) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরা।
চিকিৎসা শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য সাবেক ইএনটি সার্জন অধ্যাপক ডা. এম এ মাজেদ (মরণোত্তর) এবং অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তারকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান (মরণোত্তর) এবং ড. এ.বি.এম. হারুন-উর-রশিদ সম্মাননা পেয়েছেন।
বিশেষ ক্যাটাগরিতেও সম্মাননা পেয়েছেন কয়েকজন শিক্ষাব্রতী। ১৯৭৪ সাল থেকে বিনামূল্যে শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য 'এক টাকার শিক্ষক' হিসেবে পরিচিত মো. লুৎফর রহমান, 'রমনী কান্ত পাঠশালা'র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় অবদানের জন্য প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খান এ তালিকায় রয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পৃথক বিচারক ও সার্চ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে এসব শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
