রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল কারাগারে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. জেহাদ হোসেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানি কালে আসামির পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাকিবুল হাসানের পাঁচদিন এবং সোমবার দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন রাকিবুল। অডিওতে রাকিবুল সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলতে শোনা যায়।
অডিওতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে বলতে শোনা যায়, 'শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসলে কিছু হবে না' এবং 'পুলিশ তাকে ঠেকাতে পারবে না।'
গত ১৭ সেপ্টেম্বর অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাকিবুলকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
আদেশে তার প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে 'প্রশাসনিক কারণ' উল্লেখ করা হয়েছিল। তখন পুলিশের একাধিক সূত্র অডিওর কণ্ঠ রাকিবুলের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল।
তবে রাকিবুল নিজে ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতেই রাকিবুলকে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ডিএমপি ওই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় নতুন ওসি নিয়োগ দেয় ডিএমপি। পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি করা হয়।
