একমাত্র সন্তানের জানাজার আগে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপ্রতিমের বাবা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শুরুর আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'অপ্রতিম আপনাদের স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হয়েছে। সে যদি কাউকে মনে কষ্ট দিয়ে থাকে, তবে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।' কথা বলতে বলতে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার এই কান্নায় উপস্থিত অনেকের চোখেই জল চলে আসে এবং চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে কোটবাড়ির গন্ধমতিতে বেলা ১১টায় তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
অপ্রতিমকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। ছোট্ট এই শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সবাই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার সন্ধান মেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি নির্জন স্থান থেকে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে প্রথমে তুহিন নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদসহ মোট তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
