সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা ও উপকারভোগী বাড়ানো হয়েছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার হার ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সংকটাপন্ন রোগীদের এককালীন চিকিৎসা সহায়তাও দ্বিগুণ করে এক লাখ টাকা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার মাসিক হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এ ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যাও ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার মাসিক হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এ কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ করা হয়েছে। আর প্রতিবন্ধী ভাতার মাসিক হার ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা সাড়ে ৩৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ লাখ করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির হার ও পরিসরও বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক স্তরে মাসিক ১,০০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ১,১০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১,২০০ টাকা এবং উচ্চতর বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ১,৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপবৃত্তির সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইসিস, জটিল হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায়—সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এককালীন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ রোগীপ্রতি ৫০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে এক লাখ টাকা করা হয়েছে।
সরাসরি উপকারভোগীর কাছে যাচ্ছে অর্থ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, দেশের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ বণ্টনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রকৃত দুস্থদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে জাতীয় পরিচয়পত্রের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সঙ্গে উপকারভোগীদের সার্বিক তথ্য যাচাই-বাছাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে অযোগ্য কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার আওতায় আসার সুযোগ বন্ধ হয়েছে।
তিনি জানান, "প্রথাগত ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে এখন অনলাইনে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে– প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।"
সরকারি অনুদান মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দিতে 'জি-টু-পি' (গভমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, "এর মাধ্যমে সরকারি অনুদান সরাসরি সুফলভোগীর নিজ ব্যাংক হিসাব কিংবা পছন্দসই মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্যবস্থার সুবাদে মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ দৌরাত্ম্য ও কমিশন বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।"
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বাত্মক প্রয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষম সম্প্রসারণ এবং উপকারভোগী নির্বাচনে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব সুবিধা সরাসরি প্রকৃত দুস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
