আছিয়া হত্যা মামলা: আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ
মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানির জন্য আসামিপক্ষে সরকারি খরচে ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালতে হিটু শেখের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান খানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম বলেন, 'হিটু শেখের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী মো. আব্বাস উদ্দিন এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেওয়ায় শুনানির দ্বিতীয় দিনেই হাফিজুর রহমান খানকে দায়িত্ব দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।'
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হিটু শেখের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
মামলার অপর তিন আসামি শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ের পর হিটু শেখ মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে।
উল্লেখ্য, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশুটি। ওই দিন তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৮ মার্চ তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।
এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। শিশুটির মৃত্যুর পর ওই মামলায় হত্যার অভিযোগও যুক্ত হয়। মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ ১৫ মার্চ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে ১৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয়। সেদিনই হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় এবং অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৮ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর দুই দিনের যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত জুন মাসে মামলার পেপারবুক হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসে।
