২০২৮ সালের মধ্যে সব নাগরিক পাবেন ই-হেলথ কার্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সকল নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য নুরুন্নেসা সিদ্দিকার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে সব নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিকের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।"
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি জানান, ডিজিটাল হেলথ আইডি চালুর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে। এর ফলে একটি জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডাটাবেজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ ওষুধের পুনরাবৃত্তি রোধ, সঠিক চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা, অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং একটি দক্ষ ও নিরাপদ রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "ডিজিটাল হেলথ আইডির মাধ্যমে ই-হেলথ কার্ড প্রদান বাংলাদেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।"
সরকারের অন্যান্য পরিকল্পনার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নতুন হাসপাতাল স্থাপন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। জনবল সংকট নিরসনে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) সম্প্রসারণ করা হবে।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও প্রেসক্রিপশন অডিট ব্যবস্থা চালু করা হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের জন্য জাতীয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠন এবং চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে—জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গঠন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাকজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ। মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।
