জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনাকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বললেন এমপি রনি, সংসদে হইচই
গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি বলেছেন, ''এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই 'আননেসেসারি একটি জুলাই সনদ' নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।''
আজ সোমবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। এ সময় সংসদে কিছুটা হইচই হয়।
বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশ্য করে এমপি রনি বলেন, 'আপনারা যদি জুলাই আন্দোলনকে একক অর্জন বলে দাবি করতে চান, তাহলে আমাদের মন ব্যথিত হয়। সেখানে তো আমরাও ছিলাম, আমরা আমাদেরও ৪০০ এর বেশি সহযোদ্ধা হারিয়েছি।'
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের হাতে রক্তের দাগ থাকলেও বিএনপি একমাত্র দল যাদের হাতে কোনো রক্তের দাগ নেই। বিরোধীদলের সদস্যদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'আমাদের ১৭ বছর রাজপথের সংগ্রামের সামনে তিন-চার বছরের হুংকার দিয়ে লাভ নেই।'
তার এই বক্তব্যের পরপরই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে সমস্বরে প্রতিবাদ শুরু করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম চিৎকার করে বলেন, যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আজকের এই সরকার গঠিত হয়েছে, সেই জুলাই সনদ আলোচনাকে 'আননেসেসারি' বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জুলাই সনদকে খাটো করা মানে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদদের রক্তকে অপমান করা। তার এই বক্তব্যের সময় সংসদে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক হইচই ও বাদানুবাদ শুরু হয়।
উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনারা যা কিছু বলবেন স্পিকারকে অ্যাড্রেস করে বলবেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ এখানে তো বিভিন্ন দলের সদস্যবৃন্দ রিপ্রেজেন্টেড। প্রত্যেকের কি একই অনুভব হতে পারে? গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা।
স্পিকার কথা বলার সময়ও সংসদ সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন স্পিকার বলেন, 'যখন স্পিকার কথা বলে, অনুগ্রহ করে সবাই চুপ করে বসে থাকবেন নিজের আসনে।'
বিরোধীদলের উদ্দেশ্যে স্পিকার আরও বলেন, 'সবারই বাকস্বাধীনতা আছে এবং যদি কোনো বক্তব্য আপনাদের পছন্দ না হয়, এরপরেই তো আপনারা একজন বক্তব্য রাখবেন। তিনি এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে আপনাদের মতামত প্রচার করতে পারেন। সুন্দর ও শালীনভাবে যে যার বক্তব্য জাতীয় সংসদে রাখবেন, এটাই আমরা আশা করি। অহেতুক একজন বক্তাকে কেউ ডিস্টার্ব (বিরক্ত) করবেন না। আপনার টার্ন (সময়) যখন আসবে আপনি আপনার বক্তব্য সুবিধামতোভাবে দেবেন।'
এরপর স্পিকার মাগরিবের নামাজের বিরতির ঘোষণা করেন। বিরতির পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদে বলেন, তিনি সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিমকে বিষয়টি জিজ্ঞাস করেছেন।
চিফ হুইপের ভাষ্য- এমপি রনি বলেছেন, তিনি জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলেননি; বলেছেন, 'আননেসেসারি' বিতর্ক করা যাবে না'। প্রয়োজন হলে এটি এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
