টেন্ডার দ্বন্দ্বে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত, গ্রেপ্তার ৭
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম সরবরাহের টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) পাঁচজনকে এবং পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শরিফুল আলম করিম, আমিনুল ইসলাম ওরফে কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিন এবং আরিফুজ্জামান। অন্যদিকে, বনানী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ইউসূফ আলী ও নেছার আহমেদকে।
সংবাদ সম্মেলনে উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, হাসপাতালের টেন্ডার সংক্রান্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে ডা. আহমদ হোসেনকে ভয় দেখাতে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার পরপরই র্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা যৌথ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম সরবরাহের কাজ নিয়ে 'রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স' এবং 'মোনায়েম গ্রুপে'র মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রুবেল সেখান থেকেই হামলার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশে দেশে থাকা করিমসহ অন্যরা মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এই হামলা নিশ্চিত করে। হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে র্যাব জানিয়েছে, এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং চিকিৎসককে ভয় দেখানোর জন্য করা হয়েছিল। এই ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক মো. নেয়ামুল হালিম খান জানান, মূল পরিকল্পনাকারী বিদেশে থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, সোমবার রাতে মহাখালী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইউসূফ ও নেছারকে গ্রেপ্তার করে বনানী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতাল থেকে কর্মস্থল শেষ করে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন ডা. আহমদ হোসেন। মহাখালী ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পুরনো ভবনের পেছনের রাস্তায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে বনানী থানায় অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
