পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফুটপাত উদ্ধারে নেমেছে ডিএনসিসি: প্রশাসক শফিকুল ইসলাম
ঢাকার সড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, 'ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি পথচারী। তাই পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা পেলে দ্রুত সময়ে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।'
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গুলশানে ডিএনসিসির সভাকক্ষে আয়োজিত 'ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক এসব কথা বলেন।
ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা 'ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস'-এর কারিগরি সহায়তায় এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় নথিভুক্ত রোড ক্র্যাশের মামলা ও সাধারণ ডায়েরি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি যৌথভাবে প্রকাশ করে ডিএনসিসি ও ডিএমপি।
অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বিআইজিআরএস-ঢাকার সার্ভিল্যান্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী।
তিনি জানান, ডিএমপি'র রেকর্ড অনুযায়ী ২০২২-২০২৩ সালে ঢাকা শহরের সড়কে রোড ক্র্যাশে মোট ৫৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ (৩০৩ জন) পথচারী, ২৪ শতাংশ (১২৮ জন) মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৮ শতাংশ (৪১ জন) রিকশা ব্যবহারকারী। লিঙ্গভেদে নিহতদের ৮০ শতাংশ পুরুষ এবং বয়সভেদে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ, সড়কে যারা প্রাণ হারাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
ডা. তানভীর আরও জানান, দিনের তুলনায় রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি এবং এসব দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত বেপরোয়া বাস ও ট্রাক দায়ী। প্রতিবেদনে ঢাকার বেশ কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড় চিহ্নিত করা হয়েছে।
তথ্যমতে, আলোচ্য সময়ে যাত্রাবাড়ী ও বিমানবন্দর মোড়ে সর্বোচ্চ ১২ জন করে এবং আব্দুল্লাহপুর মোড়ে ১০ জন মারা গেছেন। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আর্মি গলফ ক্লাব বাস স্ট্যান্ড থেকে আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কে ৬৭ জন নিহত হয়েছেন, যা প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ৮ জনেরও বেশি। তিনি পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিআইজিআরএস সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. ওয়াতিন আলম এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ ওয়ালি নোমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
