‘মঙ্গল’ বা ‘আনন্দ’ নয়, এখন থেকে হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতিমন্ত্রী
পয়লা বৈশাখে যে শোভাযাত্রা হবে সেটি আর 'আনন্দ' বা 'মঙ্গল' শোভাযাত্রা নামে হবে না। এবার সেটি 'বৈশাখী শোভাযাত্রা' নামে উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারোসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শোভাযাত্রার নাম নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'আমি যেটা বলেছি সেটা হলো আনন্দ আর মঙ্গল। যে আনন্দ সেই মঙ্গল। এ নিয়ে বিতর্কটা কেন? কেউ আছে একদম আঁকড়ে ধরেছে যে না 'মঙ্গল'ই হতে হবে, কেউ বলছে 'আনন্দ'ই থাকতে হবে। রবীন্দ্রনাথের গানেও আছে—'আনন্দালোকে মঙ্গলালোকে'। আসলে আনন্দ আর মঙ্গলের অর্থ আগে বুঝতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'পহেলা বৈশাখে আমাদের দেশের মানুষ ও কৃষক সমাজ আনন্দে ভেসে যায়। এই আনন্দের মধ্যেই আমরা মঙ্গল খুঁজি। আমরা কৃষক সমাজেরই উত্তরসূরি। এই নাম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, আমরা তার অবসান ঘটাতে চাই।'
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, 'আজকের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এবার থেকে আমরা এটাকে 'আনন্দ শোভাযাত্রা' বলব না, 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'ও বলব না। শোভাযাত্রা হবে যথাযথ মর্যাদার সাথে। সমস্ত সংস্কৃতির এখানে প্রদর্শন থাকবে। যার যার মতো, যার যার অঞ্চলের ঢোল, বাদ্য, পোশাক-আশাক নিয়ে আমাদের একটা আনন্দঘন শোভাযাত্রা হবে। এই শোভাযাত্রার নাম হবে 'বৈশাখী শোভাযাত্রা'। যেমন বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখী আনন্দ—সবকিছুই আমরা বৈশাখ হাইলাইট করতে চাই।'
ইউনেস্কোর স্বীকৃতির বিষয়টি স্পষ্ট করে মন্ত্রী বলেন, 'ইউনেস্কো 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' নামে নির্দিষ্ট কোনো নামকে স্বীকৃতি দেয়নি। তারা স্বীকৃতি দিয়েছে বৈশাখী উৎসব বা নববর্ষের কন্টেন্টের ওপর। নববর্ষ উৎসব, বর্ষবরণ... মানে বাঙালিরা বর্ষবরণ করে, বাঙালিরা নবান্ন উৎসব করে, বাঙালিরা পিঠা উৎসব করে—বাংলাদেশের সংস্কৃতি কি কি, এটা ওরা তুলে ধরেছে। আমাদের সংস্কৃতি কি শোভাযাত্রা শুধু? নানান ব্যাপার তো। অনেক অনুষ্ঠানই হবে।'
